জীবনের বিভিন্ন সময় নিজের বা অন্যের প্রয়োজনে মানুষের দেহে বাইরে থেকে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয়। সেই রক্তটি আসে অন্য কারও দেহ থেকে। কিন্তু রক্ত দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে যে প্রশ্নটি সবার আগে করা হয়, সেটি হলো: রক্তের গ্রুপ কী?
রোগীর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে গ্রুপ মিললেই কেবল রক্তদাতা রোগীকে রক্ত দিতে পারেন। অতি প্রয়োজনীয় এই ব্লাড গ্রুপের আবিষ্কারক অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার। আজ তার ১৪৮ তম জন্মবার্ষিকী।
তার জন্মদিনের সম্মানে বিশেষ অ্যানিমেটেড ডুডল বানিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। ডুডলটিতে দেখা যায়, গবেষণাগারের একটি টেবিলে একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র আর চারটি টেস্টটিউব। প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ চিহ্নিত রক্ত। পাশেই ধূসর চুলের ল্যান্ডস্টেইনার দাঁড়িয়ে আছেন।
১৯০১ সালে ল্যান্ডস্টেইনারের এই আবিষ্কারের আগেও ১৭ শতাব্দী থেকেই মানবদেহে রক্ত আদানপ্রদানের পরীক্ষা চলছিল। তখন এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে রক্ত স্থানান্তর সফল হলেও অন্য প্রাণীর রক্ত মানবদেহে দিলেই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাইরে থেকে ঢোকানো সেই রক্তের কণিকা ভেঙ্গে ফেলছিল। এতে দেহের পুরো রক্তই জমাট বেঁধে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ মারা পর্যন্ত গেল।
এমন ঘটনার ব্যাখ্যাই আসে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের আবিষ্কার থেকে। তিনি এ, বি এবং ও – এই তিন ধরণের রক্তের গ্রুপ সনাক্ত করে দেখেন, এক ব্লাড গ্রুপের মানুষের দেহে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রবেশ করলেই এই জটিলতাগুলো সৃষ্টি হয়।
যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
তবে রক্তের গ্রুপ ছাড়াও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ল্যান্ডস্টেইনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দেহের অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা করেন। চিকিৎসক আরউইন পপারের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় তিনি ১৯০৮ সালে পোলিওর ভাইরাস আবিষ্কার করেন, যা পরে পোলিওর টিকা আবিষ্কারের পথ করে দিয়েছিল।








