ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় স্থানীয় ‘ফটো সাংবাদিক’ ইদ্রিছ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাতে সিলেট উপ শহরের ফতেহ নগরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সোমবার দুপুরে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানায়। শুনানি শেষে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মুখ্য মহানগর হাকিম ফারজানা ইয়াসমিন।
সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমস ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ইদ্রিস আলীকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। ওইদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পথে বাসার কাছেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ছিলেন। এর আগে সিলেটেই জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত হয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের আরেক সংগঠক জগৎজ্যোতি।
অনন্ত বিজয় পূবালী ব্যাংক সিলেট শাখায় চাকরি করতেন। চাকরির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামের একটি ছোট কাগজের সম্পাদক ছিলেন তিনি। এছাড়াও ‘মুক্তমনা’, ‘পড়ুয়া’ ও ‘বাঁধভাঙ্গার আওয়াজ’সহ বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন নিয়মিত।
নিহত হওয়ার আগের রাতেই ‘মুক্তমনা’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায় এবং ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন অনন্ত বিজয়।
অভিজিত রায় হত্যার আড়াই মাসের মাথায় একইভাবে হামলায় মৃত্যু হয় তার। যেভাবে অভিজিত হত্যাকাণ্ডের মাসখানেক পর খুন হয়েছিলেন আরেক ওয়াশিকুর রহমান বাবু।
বাবুর মতো অনন্ত বিজয়ও অভিজিৎ রায় প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তমনা’ ব্লগের নিয়মিত লেখক ছিলেন। সম্পাদক, অনুবাদক এবং লেখক হিসেবে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে।
মানবতা এবং যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে ‘মুক্তমনা’ র্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন তিনি।






