বৃহস্পতিবার গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে রায় দিয়েছে ব্রিটেনের জনগণ। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই ভোট যুক্তরাজ্যের উপর একটি বিশাল প্রভাব ফেলবে।
গণভোটের এই ফলাফল প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভবত তার জাতীয় দলকেও প্রভাবিত করবে। তাই ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া ইংলিশ ফুটবলের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত সপ্তাহেই ইংলিশ লিগের ২০টি ক্লাব ব্রিটেনকে ইইউতে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। লিগ কমিটির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড স্কুডামোর বলেছিলেন, গণভোট ইইউতে থেকে যাওয়া বিপক্ষে রায় দিলে লিগের জন্য সেটা খুবই খারাপ হবে।
তিনি বলেন, এমনটা হলে মেধা সম্পতি, সম্প্রাচার স্বত্ব ও ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের আশঙ্কা ব্রেক্সিটের ফলে শুধু ইংলিশ ফুটবলই নয়, এর প্রভাব পড়বে ইউরোপসহ বিশ্ব ফুটবলে।

ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটিশ পাউন্ডের অবমূল্যায়ণ হবে। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের অনিশ্চয়তার কারণেই সেটা হবে। ইইউতে পণ্য প্রবেশের নানা ঝামেলার কারণে ব্রিটেনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ কমবে। পাউন্ডের অবমূল্যায়ণের ফলে খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে ক্লাবগুলোর খরচ বাড়বে।
উদাহরণ হিসেবে গোলডটকম দেখিয়েছে, ইটালির ক্লাব জুভেন্টাস ফরাসি তারকা পল পগবার দাম ১৬০ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করেছে। ২০১৫ সালের জুনের মুদ্রা মূল্য হিসেবে ০ দশমিক ৭০৯ রেটে যে টাকায় পগবাকে ব্রিটেনে ক্লাব নিতে পারতো ব্রেক্সিটের পর এখন সেটা বেড়ে ০ দশমিক ৯০০ বা তার বেশি হারে নিতে হবে।
এই হারে যদি চেলসি বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পগবাকে দলে নিতে চায় তাহলে আগে যেখানে ১১৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে পারতো, এখন সেখানে ১৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড লাগবে। তার মানে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি খরচ করতে হবে তাদের।
ব্রেক্সিটের ফলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো সার্বিক বেতন কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে আর্থিক হিসেব-নিকেশে করে ক্লাবগুলো দল সাজাতে ভারসাম্য হারাবে। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের বাইরের ক্লাবগুলো অনেক বেশি সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে খেলোয়াড় কিনতে পারবে।
ব্রেক্সিটের ফলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো আরো বেশি হারে দেশীয় মালিকানা হারাবে। লিগের বর্তমান ২০ ক্লাবের ১৪টির বিনিয়োগকারীই বিদেশী। ব্রেক্সিট তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর হয়ে এসেছে। পাউন্ডের অবমূল্যায়ণের ফলে এসব বিনিয়োগকারীরা আরো কম দামে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব কিনতে পারবে।
ব্রিটেন ইইউতে থাকার কারণে এবং লিগের জনপ্রিয়তার জন্য ইইউভুক্ত দেশগুলোর কোম্পানি প্রিমিয়ার লিগে বিনিয়োগ করেছে। ব্রিটেন ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়া এসব কোম্পানি তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে প্রিমিয়ার লিগের দাম অনেক কমে যাবে।
বিশ্বের যেকোনো লিগের চেয়ে টিভি সম্প্রাচার স্বত্ব’র দাম প্রিমিয়ার অনেক বেশি। কিন্তু ব্রেক্সিটের কারণে প্রিমিয়ার লিগের প্রচার স্বত্বেও ধস নামতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের ৬৫ শতাংশ খেলোয়াড় বিদেশী। মুক্ত শ্রম আইনের কারণে ইইউ পাসপোর্টধারী যেকোনো খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে পারে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ব্রেক্সিটের পর সে হিসেব কি হবে তা এখনো অজানা। তবে করের আইনি ঝামেলায় যে পরতে হবে সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। সেই সাথে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ক পারমিটের বিষয়টিও থাকছে, যেটা আগে তাদের প্রয়োজন ছিল না।
ইইউ নাগরিকত্ব থাকা খেলোয়াড়দের খুব সহজেই ধারে অন্য ক্লাবে ছাড়তে পারে দলগুলো এবং আবার সুবিধে মতো নিজের ক্লাবে ফেরত আনতে পারে। ব্রেক্সিটের ফলে সেই সুযোগ আর পাবে না প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।
এছাড়া ফিফা আইনে ১৮ বছরের নিচে কোনো খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোতে নিষেধ। কিন্তু ইইউভুক্ত দেশগুলোতে এই আইন প্রযোজ্য নয়। ব্রেক্সিটের ফলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো এই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে।








