ইউরোপীয়
ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটেনের ভোটাররা রায় দেওয়ার পর
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বের অনেক নেতা। এতে পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের
প্রতিক্রিয়াই উঠে এসেছে।
গণভোটের ফলাফলের পর প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান
হিসেবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম
ট্রার্নবুল। তিনি বলেছেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই তার দেশ ইইউর সাথে
মুক্তবাণিজ্য চালিয়ে যাবে।
টার্নবুল বলেন, গণভোটের ফলাফলের পর অস্ট্রেলিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আমাদের শেয়ার বাজারেরও দরপতন হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্কও। তিনি
বলেছেন, এটা অনিয়ন্ত্রিত ও চরম আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিক্রিয়া
জানানোর সময় না। ২৭ সদস্যের নেতা (ব্রিটেন বেরিয়ে যাওয়া ইইউর সদস্য এখন ২৭)
হিসেবে আমি বলতে চাই, ২৭ দেশের একতা ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
ব্রিটেন
আনুষ্ঠানিকভাবে বের না হওয়া পর্যন্ত ইইউর সব আইন-কানুনই তাদের উপর প্রয়োগ
হবে বলে জানান টাস্ক। আগামী সপ্তাহে বাকি ২৭ সদস্য দেশের সাথে জরুরি বৈঠক
করবেন বলেও জানিয়েছেন কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট।
টাস্ক বলেন, ‘আমাদের
একতার ইতিহাসে গত বছরটা সবচেয়ে কঠিন বছর গেছে। তবে আমার বাবা বলতেন, যা
তোমাকে হত্যা করতে পারে না, তা তোমাকে আরো শক্তিশালী করবে।’
প্রতিক্রিয়ায়
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ড মার্টিন সুলজ বলেন, আমরা ফলাফলকে
শ্রদ্ধা জানাই। ব্রিটেনকে নিজের পথে হাটতে দিতে আমাদের পরিস্কার মত রয়েছে।
গণভোটের
ফলাফলের পর ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম পড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মার্টিন বলেন,
পাউন্ডের ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে ইউরো ক্ষেত্রে আমি সেটা দেখতে চাই না।
অস্ট্রিয়ার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ক্রুজ বলেছেন, অন্য একটা দেশের উপর কোনো
সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে ব্রিটেন বেরিয়ে গেলেও ইইউর একতা টিকে
থাকবে।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল বলেছেন, ইইউর ভবিষ্যত ঠিক করতে বাকি সদস্য রাষ্ট্রগুলো অতিদ্রুত বৈঠকে বসা উচিত।
প্রতিক্রিয়ায়
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টি বলেছেন, ইইউ নিয়ে ব্রিটেনে
যেমন অসস্তোষ ছিল তেমনি অন্য দেশেও রয়েছে। আমার নিজের দেশেও সেটা আছে। তাই
একে সংস্কারের মাধ্যমে আরো কল্যাণকর করা উচিত।
জার্মান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইমেনার বলেছেন, এটা সংযতভাবে বললেও
বলতে হয়, ইইউ এবং ব্রিটেনের জন্য এটা একটা দুঃখের দিন।
ছোট কথায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জার্মান ভাইস-চ্যান্সেলরও। সিগম্যার গ্যাব্রিয়েল শুধু বলেছেন, ইউরোপের জন্য দুঃখের একটা দিন।
গণভোটের
ফলাফলের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো
কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত তার
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জেরার্ড আরাউড বলেছেন, ইইউর একতা রক্ষায় বাকি
সদস্যদেশগুলোকে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেছেন, এটা ব্রিটিশ জনগণের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে যাক – এটাই ক্রেমলিন চাইছিল কিনা, এ নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সমৃদ্ধশালী ইউরোপ সকল পক্ষেরই স্বার্থের অনুকুল, এবং চীন ব্রিটেন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের সাথে সহযোগতা অব্যাহত রাখবে।
এশিয়া
অঞ্চল থেকে এখনো পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি। তিনি বলেছেন, এই গণভোটের ফলাফল অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে, কারণ যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং বাকি বিশ্বে এর প্রভাব কি হবে তা এখনো অজানা।
সরকার বা সরকারে বাইরে
কিংবা বিরোধী দল ও বিভিন্ন পার্টি থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সুইডেন,
ডেনমার্ক, চেক রিপাকলিক, ইটালি, আয়ারল্যান্ড, জিব্লাটার, পোল্যান্ড ও
নরওয়েসহ আরো অনেক দেশের নেতারা।
বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত সব মিডিয়াও।
তবে গণভোটের ফলাফলের পর কোনো পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো রকম
প্রতিক্রিয়া জানায়নি ক্যামেরনের পক্ষে থাকা পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র।







