বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে হামলায় ২৮ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে বৃহস্পতিবার আটককৃত ‘ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক’ ফায়সাল শেফৌর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বেলজিয়ান প্রসিকিউটররা। জাভেনতেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মেলবিক মেট্রোতে আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনাটিতে দায় স্বীকার করেছিলো ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
ব্রাসেলসে প্রসেকিউটরের অফিসের বাইরে থেকে বৃহস্পতিবার আটক করা ফায়সালের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সন্ত্রাসমূলক হত্যাকান্ড এবং এই ধরণের হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
আর কোন বিষদ বর্ণনা বা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী দুজন- নাজিম লাক্রাউই এবং ব্রাহিম এল-বাকরাউই’র (ব্রাহিমের ভাই খালিদ মেলবেক মেট্রোতে হামলা চালায়) সাথে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ফায়সালকে দেখা যাওয়া নিয়ে বেলজিয়ামের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়েও কোন মন্তব্য করা হয়নি বিবৃতিটিতে। গণমাধ্যমে ফায়সালকে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মাথায় ক্যাপ, ধুসর জ্যাকেট পরিধান করা ফায়সালের কাছেও বিস্ফোরক ভর্তি লাগেজ ছিলো। তবে সে বিস্ফোরণ না ঘটিয়েই পালিয়ে গিয়েছিলো। বহিগর্মন হল খালি হওয়ার আগে তাতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্যারিস হামলার (নিহত ১৩০) প্রধান সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসালামকে গ্রেপ্তারের চারদিন পর বেলজিয়ামের রাজধানীতে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আবদেসালাম জিজ্ঞাসাবাদের কাজে সহায়তা করছে উল্লেখ করা হলেও দেশটির বিচার মন্ত্রী কোয়েন গিনস পরবর্তীতে সংসদে নিশ্চিত করেন যে ব্রাসেলসে হামলার (গত মঙ্গলবার) পর থেকে সে কোন কথা বলতে চাইছে না।
মঙ্গলবারের আগে জাভেনতেম বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হবে না বলে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার ব্রাসেলসের কেন্দ্রে হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও তা প্রশাসনের অনুরোধে বাতিল করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছে আয়োজকরা।
বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের পুলিশি অভিযানে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
ব্রাসেলস হামলায় তিনজন হামলাকারী ছাড়াও নিহত ২৮ জনের মধ্যে ২৪ জনকে এখন পর্যন্ত শণাক্ত করা গিয়েছে। ১৪ জন বিমানবন্দরে এবং মেট্রো স্ট্যাশনে ১০ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশী নাগরিক।
ব্রাসেলসে ভয়াবহ সেই হামলায় ৩৪০ জন আহত হন। যাদের মধ্যে ১০১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে আবার চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৬২ জন।






