কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে কারাকাসে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত রুই পেরেইরা ও কানাডার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কোয়ালিককে বহিষ্কার করেছিল ভেনেজুয়েলা। তার কয়েকদিন পরেই ব্রাজিলে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে সিনিয়র কূটনীতিক (চার্জেস ডি’অ্যাফেয়ার্স) জেরার্দো দেলগাদোকে ব্যক্তিত্বহীন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বহিষ্কার করল ব্রাজিল।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
এ ঘটনার পর ভেনেজুয়েলা বলে, ব্রাজিলের সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।তবে কানাডার রাষ্ট্রদূতকে ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করার পর কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, তাদের রাষ্ট্রদূত উইল্মার বাররিয়েটস ফার্নান্দেজ এখন দেশের বাইরে আছে। তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন অনুমতি দেওয়া হবে না।
শনিবার দেশটির প্রভাবশালী গণপরিষদের প্রধান ডেলসি রদ্রিগেজ এই বহিষ্কারাদেশ দেন। পেরেইরার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছেন, আর কোয়ালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন।
কারাকাসের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ব্রাজিল ও কানাডা। দু’টি দেশের সঙ্গেই ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিরোধীদের হয়রানির অভিযোগ তোলে ব্রাজিল। আর কয়েকমাস আগে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে ভেনেজুয়েলার কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কানাডা। এরই প্রেক্ষিতে কারাকাস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রাজিলে বামপন্থি রাজনীতিক দিলমা রৌসেফকে অপসারণ করে মধ্য-ডানপন্থি মিশেল তেমর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কারাকাসের সঙ্গে ব্রাসিলিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়। বামপন্থি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ব্রাজিলের রাজনীতিতে ওই পরিবর্তনকে অভিহিত করেন ‘ডানপন্থিদের অভ্যুত্থান’ হিসেবে।
আর যুক্তরাষ্ট্র বলয়ের দেশ কানাডা বরাবরই ভেনেজুয়েলার বাম সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। এই অভিযোগে অটোয়া ওই ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দু’দেশের সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটে।







