ভাত ছিটালে নাকি কাকের অভাব হয় না ……. অথচ ব্যালট বাক্স থাকার পরও ভোটাররা কেন ভোট দিতে যান না ? ভাতের লোভে কিম্বা পেটের ক্ষিধায় যদি কাক আসে তাহলে ব্যালটে কেন মানুষের সব তাগিদ, অধিকার, প্রতিবাদ, ঐক্য আর ক্ষমতা গাঁ সয়ে যাওয়া ভোঁতা অনুভূতি হয়ে গেল?
অনেক সময় দেখা যায় পেট ভর্তি থাকলেও ভাত ছিটানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু কাক কিন্তু অভুক্তদের কাতারে সামিল হয়ে খাবার খুটে খায় এটা কিন্তু উদরপূর্তি নয় বরং রেওয়াজটাকে ধরে রেখে ঐক্যটাকে বেধেঁ রাখা। অথচ বুলেট ডরে আয়ুরেখা কমে যাবার ভয়ে বুথে এখন ভুতের ভয়।
সুনশান ভোট কেন্দ্র গুলোতে ব্যালট বাক্সগুলোকে অভিশাপ বয়ে আনা হন্তারক মনে করে ভোটের লাইন থেকে ক্রমেই লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে মানুষ। এখন প্রশ্ন হল? তবে কি মানুষের থেকে কাক সৎ আর বুদ্ধিমান….কারণ কাক তার ঐক্যটাকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন না থাকলেও অন্যর উঠানে লাঠি ঝাটা আর তাড়া খেয়েও না খাওয়াদের দলে থাকে। আর মানুষ বনের বাঘে নয় মনের বাঘের ভয়ে তচনছ করে দিচ্ছে নিজের অধিকার আর শক্তি। খারাপ আর স্বার্থপর মানুষ বোঝাতে মানুষ যে কেন বলে তোর তো কাকের মত স্বভাব.. খেয়ে দেয়ে মুখ মুছে ফেলিস…কিন্তু এখন তো দেখি পুরা জাতিরই কাকের অবস্থা। তবে কি মানুষের থেকে ঢের ভালো কালো কাক।
তাই বলে কি কাককে সব সাধুবাদ দিয়ে আমরা আমাদের সব দায় দায়িত্ব হরিলুট হতে দিব? আমাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? আমাদের করণীয় মানেই কি শুধু কর্মহীন জীবনে কাঁচের বোকা বাক্সে বাকবাকুম করা। ( অবশ্য কর্মময় জীবনে প্রশাসনের কর্তরা যা যা করেছেন সেই পাপের ধারাবাহিকতারই ফসল বুলেট বিদ্ধ ব্যালট) কেন ব্যালটে আজ আমার ভোট নয় বরং অন্যর ভোটে ভারাক্রান্ত। আমার ভোটটা কোথাই গেল কিম্বা কেন আমি ভোট দিতে যাইনা এই বিষয় গুলোর সমাধান ম্যাজিকটা কিন্তু যার যার কাছেই আছে দরকার শুধু স্বার্থপর না হয়ে ঐক্য।
একতার কথা বলছি এই কারণে ….সারাদেশের মোট ভোটার ১০ কোটি সেখানে প্রায় ৮ কোটি ভোটার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটার। সোজা কথায় বলতে চাই ইউপিতে যদি ৮ কোটি ভোটার হয় তাহলে বাকি ২ কোটি কেন্দ্র দখলকারী খুনী আর সন্ত্রাসী …তার মানে তো দাঁড়ালো এটাই ৮ কোটির চাইতে ২ কোটিই প্রতাপশালী? অথচ ৮ কোটির সব ক্ষমতায় ছিল লুটেরাদের রুখে দেবার। সেটা না করে জনগণ দিন দিন কবরের নীরবতা নামিয়ে আনছে ভোট কেন্দ্র গুলোতে। এসব দেখতে দেখতে গাঁ জ্বালা করা অভিজ্ঞতার তাজা জবাবনবন্দীর কিছু শব্দ পৃষ্টা বন্দি করে দেখি কেমন ছিল চতুর্থ দফা।
ফেনীর সকাল : ভোটের আগের রাত প্রায় সাড়ে ৯টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম শংঙ্কা আর নানা জুজুর ডর দেখানো অঞ্চল ফেনীতে। ফেনী জেলার চ্যানেল আইয়ের আমাদের সহকর্মী রবি ভাইকে আগের দিনই বলে রেখেছিলাম রাতজাগা নয় বরং রাত থাকার মত হোটেল রুম বুকিং দিয়ে রাখতে। পৌঁছেই শুনলাম শহরের সবচে ভালো হোটেলটা নাকি মেয়েদের রাখে না! শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিল তবে মেয়ে কিম্বা মানুষ হিসেবে নয় সাংবাদিক বিবেচনায়। হায়রে ফেনী। কথায় কথায় জানলাম হোটেলটির উল্টা দিকে ঝকঝকে মসজিদ কতৃপক্ষই হোটেল মালিকানায়। যাই হোক দেখতে দেখতে রাত শেষ ভোর হলো। শুরু হল আরও একটি ভোটের সকাল। মুখের কোণে আলতো হাসি নিয়ে দিন ভর বুকের নীচে চোট পাবার অপেক্ষা নিয়ে শুরু হল ভোট।
সকাল ৬:২০ মিনিট শহর থেকে কিছু দূরে ফেনী সদর ইউনিয়ন ধলিয়া। গাড়ী থেকে কেন্দ্রে পৌঁছাবার আগেই এমন কাক ভোরে আশপাশ থেকে ধুমধাম শব্দ পেলাম। বুঝে গেলাম ভোট নামক বিয়ের আয়োজনকে কানায় কানায় পূর্ণতা দিতে কমতি রাখেনি ফেনী। সকাল সাড়ে ৭ টার মধ্যে ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নামার সাথে সাথে শব্দের মাত্রা বেড়ে গেল। কেন্দ্রে থাকা পুলিশ সদস্যদের বললাম অনুমান করতে পারছি ককটেলগুলো কোথায় বিস্ফোরণ হচ্ছে…আপনারা বন্ধ করছেন না কেন খুব আয়েশ করে পুলিশ কর্তা বললেন আপা এসব কেন্দ্রের বাহিরের বিষয় আমরা কেন্দ্রের মধ্যে। দোতলা স্কুলের উপরতলায় চোখ পড়তেই দেখলাম সরকারী দলের বাচ্চা টাইপ চেয়ারম্যান প্রার্থী দলবল নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের রুমে একান্ত মিটিং করছেন আমাদের আসার খবর পেয়ে উনি চলে যাবার রাস্তা খুঁজলেন।
যাই হোক পৌনে আটটার মধ্যে মাঠের লাইন দীর্ঘ করতে শুরু করলেন নির্বাচনের লক্ষীরুপী নারী ভোটাররা। যাক ভরসা পেলাম এই ভেবে ভোরের ভয় তাদের ঘরবন্দী করতে পারেনি। কিন্তু সকাল থেকেই স্কুলের মধ্য মাঠে এক মধ্য তরুণকে লক্ষ্য করছিলাম আবোল তাবোল দেশ প্রেমসহ নৌকা প্রেম দেখাচ্ছে। ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে শ্লোগান দিচ্ছে সরকারের নানা গুনগান করছেন…কখনো তার স্বরে চিৎকার দিচ্ছে নৌকা নৌকা বলে। সবাই তার কথা আর আচরণে এক ধরণের বিনোদন পাচ্ছে। তবে বিনোদন ওভার ডোজ হয়ে গেলে সেটি বিরক্তীতে পরিণত নেয় হলেও সেটা। আবারো পুলিশকে লোকটিকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেবার অনুরোধ করলাম। পুলিশ ধীর পায়ে গেলেন …তাকে বোঝালেন…বিনয়ের সাথে কেন্দ্র থেকে চলে যেতে বললেন শেষ মেষ তার হাতটি ধরে নিয়ে যেতে চাইলেন।
এবার তো হিতে বিপরীত লোকটি তেলে বেগুনে জ্বলে গিয়ে চিৎকার দিয়ে পুলিশকে গালি দিতে শুরু করলেন..মুহুর্তের মধ্যে নিজের গায়ের জামাটি খুলে পুলিশকে বললেন তোদের এত বড় সাহস তোরা আমার গায়ে হাত দিস আমাকে কেন্দ্র থেকে যেতে বলিস……জানিস আমি কে……আমি আওয়ামী লীগের পাগল! মুহুর্তের মধ্যে সেই পাগলের গায়ে হাত বুলিয়ে পুলিশ সদস্যরা প্রায় তার থেকে ক্ষমা চাইতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের বাহিরে চলে গেল পুলিশ আর কেন্দ্রের মধ্যে রয়ে গেল পাগল। সকালের প্রথম চোট ….শুরু হয়ে গেল ভোট।
সকাল ৮: ৪০ মিনিট গেলাম সদরের আল হুমায়রা মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে। আবারো অভিবাদন ককটেল শব্দ দিয়ে। অল্প কিছু নারী পুরুষ ভোটের লাইনে তার থেকে দ্বিগুন মানুষ রাস্তা আর বাড়ির উঠানে দাড়িয়ে ভোট দেখছে। প্রিসাইডিং অফিসার বার বার ঘাম মুঝছেন ধানের শীষের কোন এজেন্ট নাই বের করে দেয়া হয়েছে। ছাপ্পা ভোট দেবার পাঁয়তারা করছেন ক্ষমতাসীনরা। সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন আর ইসি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ গুটি কয়েক লোকের দস্যিপনা দেখছে আর মজা পাচ্ছে। এ যেন বিশাল বিনোদন। অথচ সেই লোকগুলো যদি ভোটের লাইনে প্রতিবাদ স্বরুপ দাঁড়িয়ে যায় তাহলে কিন্তু নিমিয়ে কালো ছায়া দূর হয়ে যায়। তারা সেটি না করে তামাশা দেখছেন। শুরু হল দৌঁড়ঝাপ। রিটানিং কর্মকর্তা বললেন আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মরণ চেষ্টা করছি। ৯টার লাইভ শেষ করে কিছু দূর যেতে না যেতে খবর পেলাম লুটপাট হয়ে গেছে আল হুমায়রা। হায়রে ভোট দিলমে লাগা চোট।
সকাল ৯: ৩০ এবার যাত্রা ছাগলনাইয়া উপজেলার পথে। যাত্রা পথেই খবর পেলাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে সরকারী দলের মেম্বার প্রার্থীসহ বিদ্রোহী প্রার্থীর তান্ডবে গুলিবিদ্ধ ৪ জন। ছুটলাম সদর হাসপাতালের দিকে…নিলাম হতভাগাদের ছবি পাঠালাম অফিসে। হায়রে ভোট ১ ঘন্টা পার না হতে পেলাম রক্তমাখা চোট। বেলা বাড়ছে.. ভোটার কমছে..মগজ গলা দুপুরে গ্রামের পথে ঘাটে থামছেনা শুধু কোকিলের ডাক।
সকাল ১০টা ৪০ অথবা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ছাগলনাইয়ার কাছারীপাড়া ইউপিতে যাবার পথেই খবর পেলাম তাণ্ডব চলছে সেখানে। কাছাড়ীপাড়া ঢুকতেই দেখি, গ্রামের বাজার ঘাট দোকানপাট বাড়ির জানালা দরজা সব বন্ধ কম বয়সী কয়েকটা মেয়ে মাঝে মাঝে একটু জানালা খুলে কিছু দেখার চেষ্টা করছে। দৃশ্য দেখে মনে হল কোন সিনেমার সেট ফেলা প্রেতপুরীতে এসে পড়েছি। মাটির রাস্তা লাল নীল ইটের টুকরা দিয়ে ঢাকা। বুঝলাম আমরা এসে পড়েছি ফুল বিছানো নয় ইট বিছানো কেন্দ্রে। কিছু আগের দু-পক্ষের তাণ্ডবে কেন্দ্রে তখন ঝিঁঝি ডাকা নীরবতা। কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে রাস্তার দু-পাশ থেকে বিজিবি আর পুলিশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কেন্দ্র দখলবাজদের উপর করলো লাঠিচার্জ। যতজন না ছুঁটে পালালো তার চেয়ে বহুজন যথারীতি দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে…ভোটের মাঠে তখন ঘুঘু চড়ছে…ভোটাররা নীতি বাক্য আওড়াচ্ছেন দুরে দাড়িয়ে।
প্রিসাইডিং অফিসার আমাকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনে করে দৌঁড়ে এসে আর্তি জানালো, “স্যার আমি অসহায় নির্বাচন বন্ধ করে দেন এবং যতজন ফোর্স দিয়েছেন আরও বাড়ান না হলে আমি মারা পড়বো।” আমি বললাম, “আপনার তো ক্ষমতা আছে ভোট বন্ধ করে দেবার করছেন না কেন?” নীরবতয় টের পেলাম তার ইচ্ছার মালিক তো সে না। পরে বললাম, ভুল করছেন আমি সাংবাদিক……সত্য বলে মহা ভুল করেছে এই অপরাধে বেচারার তখন শেষ অবস্থা …দিল একছুট। সেই মুহুর্তে আমায় ফোন করলেন নির্বাচন কমিশনার মহোদয় মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ…জানতে চাইলেন সব কিছু, বললাম সবটা…মানুষটা বন্ধও করতে চেয়েছিলেন কেন্দ্র.. কিন্তু কি করে করবেন ক্ষমতার কেন্দ্র যে বহু উপরে। সুশান নীরবতায় তখনো চলছে ভোট, তবে ভোট যে ভুতে দিচ্ছে সেটা স্পষ্ট।
তবে এমন যুদ্ধ যুদ্ধ সময়েও কিন্তু দেখলাম এক বাড়ির গাছ থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ডাবের কাদি কেটে গাড়ি বোঝাই করছেন…..অন্য দিকে তাকিয়ে দেখলাম মারামারির এক হোতা এক আনসার সদস্যর পকেটে ৫০০ টাকা গুজে দিলেন। মনে মনে ভাবলাম রোম যখন পুড়ছিলো..নীরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল।
বেলা ১২ টার লাইভ করতে গেলাম রাধানগর ইউনিয়নে। ঢুকতেই টের পেলাম চলছে পুলিশি অ্যাকশন…ফুটছে ককটেল। এসব কারণে ইতেমধ্যে যা হবার হয়েছে সেটাই কেন্দ্র গুলো ভোটার শুন্য। ফেনী সদর আর ছাগলনাইয়া ৯ ইউনিয়ন মিলিয়ে ৮২টি কেন্দ্রের সব কেন্দ্রে ভোটের লাইন নেই আছে দড়ির লাইন। দেখলাম ভোট কেন্দ্রের দরজা বন্ধ…উকি দিয়ে কয়েকজনকে বললাম বিষয় কি ..কেন্দ্রের মধ্যে থাকা বেশ কিছু তরুণ বললো, আপা এটা বিএপির ঘাটি আমরা অন্য কাউকে দখল নিতে দিব না। বললাম, নিজেরা দখল করে রাখবে এমন আইন কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো। কথা হল নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনিও বললেন আমরা অসহায়। বাহিরে এসে দেখলাম ভোট কেন্দ্রের দু’শো গজের মধ্যে বসে সাপ আর বানরের খেলা দেখে হাততালি দিচ্ছেন শত শত জনগণ আর ভোটার। শুধু বুঝলো না ঐ শুণ্য ভোট কেন্দ্রের মধ্যে গুমড়ে কাঁদছে তার অধিকার।
সব কেন্দ্রে কমবেশি চলছে মারামারি। বেলা বাড়ছে আশা কমছে….বড় আশা নিয়ে গিয়েছিলাম মহামায়া ইউনিয়নে ।মনে মনে ভাবছিলাম নামের কারণে যদি দৈব্য কিছু ঘটে য়ায়..সে গুড়ে বালি মহামায়াতে মহা প্রলয়। নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙঙ্গ নিয়ে ছুটলাম আরেক ইউনিয়ন ঘোপাল এর দিকে। দুপুর ২ টা আতকে উঠলাম এর থেকে প্রিয়জন হারানো শোকের বাড়ি অনেক ভালো। কেন্দ্রে কেউ নাই……একটি কুকুর সারাকেন্দ্র ঘুরছে আর এলাকার প্রশাসনের সব সদস্যরা বিশাল বিশাল মিটিং করছেন নিম্ম পদস্ত থেকে শুরু করে আনসার সদস্যদের মুখে কুলুপ আটা। তারা কিছুতেই স্বীকার করবে না কেন্দ্রে কি কি হয়েছে সে বিষয়ে।
মেইন রোডের উপর কেন্দ্র হওয়াতে গ্রামের বাড়ি ঘর গুলো একটু দূরে ছিল। জানলাম এই কেন্দ্রের এক মেম্বার প্রার্থীর মাথা ফাঠানো হয়েছে, সরকারী দল এর ৫ জন কর্মী গ্রেফতার জাল ভোট দেবার অপরাধে। প্রশাসন হিমশিম ভোট কেন্দ্র নিয়ে নয় বরং আলালের ঘরের দুলালদের আটক করেছেন এই মহা ভুলে। কথা বললাম প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে…….কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, গ্রামবাসী সহযোগিতা করলে জীবনটা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই। যাবার পথে একটু একটু জড়ো হওয়া এলাকার মানুষ এর আক্ষেপ কানে এল….বলছে ধুর ৩ হাজার টাকার ময়দা চিনি আর ডাল কিনছিলাম ভোটের দিন পেয়াজু ডালপুরি বেচে ব্যবসা করবো মারামারিতে বেচাকেনা বেশী হল না। বললাম ভোট দিতে যাননি ….বিরক্তি নিয়ে বললো ভোট দিয়ে কি লাভ।
আর মাত্র এক ঘন্টা আছে ৪টার লাইভ করতে হবে। কি করবে আর কি বলব সব আশা… সব ভাষা ফুরিয়ে আসছিলো। কেন্দ্র খোাঁজা শুরু করলাম……….. বেলা ৪টা বাঁজতে আর কয়েক মিনিট বাকি কেন্দ্র বহু দূর কি করি….সময় যে যায় যায়..গাড়ি চলছে সাপের মত গ্রামের চিকন রাস্তা দিয়ে টেনশন বাড়ছে সময় কমছে। গাড়ির জানালার বাহিরে রাস্তার পাশে আধা ভাঙঙ্গা এক মাটির বাড়ির দরজায় চোখ আটকে গেল। আধা বন্ধ দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম শাখা পড়া এক হাত…..বুড়ো আঙ্গুলে ভোটের ছাপ। গাড়ি থামাতে বললাম..দরজা ঠেলে ভিতরে গেলাম ৭/৮ জন বৃদ্ধ মহিলা ভাত ঘুম শেষ করে আলাপ করছে।
জানতে চাইলাম জায়গাটার নাম কি বললেন রাধানগর পাল পাড়া । বললাম আপনারা ভোট দিয়েছেন …গোল গোল চোখ করে শাখা আর সিদুঁর পরা মধ্য আর বৃদ্ধ রমণীরা বললেন ভোটের দিন ভোট দিব না তো কি করবো? এটা কি ধরণের ফালতু কথা বল মা…..উঠান ভর্তি নারী আর পুরুষরা সবাই তাদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন মাগো ভয় পাইলে কি মর্যাদা আর ক্ষমতা থাকে…. ভোট তো আমার মর্যাদা আর শক্তি । ক্যামেরা অন করতে বললাম….. আর কোন কেন্দ্র না এবার ৪টার লাইভ পালপাড়া।
দিনমান নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মনে আলো দিলো পালপাড়া। কল্পনার সাথে কেনো কিছু বাস্তবে মিলে গেলে সত্যিই এটা ভেবে আশা জাগে মানুষ সুন্দর। সমস্ত ভালো আর আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি পৃথিবী থেকে। বিশ্বাস অহলে গিয়েও ফিরে আসে বলেই বোধয় মৃত্যু নয় হাজার বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে। বেঁচে থাক পালপাড়া…….বুলেট নয় জয় হোক ব্যালটের…………ঘুরে দাঁড়াক জনতা…..
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








