সিরিজের বাঁচা মরার ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহস টা ব্যাটিংয়েই দেখিয়েছিল মাশরাফি। ব্যাট বলে মাশরাফি ঝড়ে ইংল্যান্ডকে ৩৪ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে বীরোচিত ৪৪ রানের অসাধারণ ইনিংসের পর বল হাতে ম্যাশ নিয়েছেন চারটি উইকেট।
টাইগারদের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথমেই ইংলিশ ইনিংসে আঘাত হানেন মাশরাফি বিন মতুর্জা। দলীয় ১২ রানে জিমস ভিঞ্চকে মোসাদ্দেকের তালুবন্দী করেন ম্যাশ।
গত ম্যাচে অভিষেকে দারুণ এক অর্ধশতক করা বেন ডাকেটকে দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফেরান সাকিব আল হাসান। এই বাঁহাতি স্পিনারের বল ডাকেটের ব্যাট-প্যাডের মাঝ দিয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে।
জ্বলে উঠার আগেই জেসন রয়কে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সোজা বলে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন রয় (১৩)।
আগের ম্যাচে শতক করা বেন স্টোকসকে রানের খাতাই খুলতে দেননি মাশরাফি। ইংলিশদের ২৬ রানে নেই ৪ উইকেট।
কঠিন চাপে পড়া ইংল্যান্ড ওই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জস বাটলার-জনি বেয়ারস্ট্রোর জুটিতে। বিপর্যয় কাটিয়ে দলীয় স্কোর ১০০ ছাড়ায় ইংলিশরা। তাদের ৭৯ রানের জুটি ভাঙ্গতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল টাইগারদের। একের পর এক বোলিং পরিবর্তন করেও ম্যাশের জুটি ভাঙ্গতে পারছিলেন না। সবাই যখন ব্যর্থ মাশরাফি যেন আশা খুঁজে পেলেন তরুণ পেসার তাসকিনের ওপর। 
নিরাশ করেননি তাসকিন, শুরতেই মুশফিকুর রহিমের গ্ল্যাভসবন্দি করে ফেরান বেয়ারস্ট্রোককে। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা মঈন আলীকে সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরিয়েছেন নাসির হোসেন। বাংলাদেশের জন্য পথের কাঁটা হয়ে ওঠা বাটলারকে ফিরিয়ে দিয়ে জয়োধ্বনি দেন তাসকিন। 
বাটলারের (৫৭) আউটের জন্য অধিনায়ক মাশরাফিকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ঠিক সময়েই রিভিউর সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। আজ ব্যাটিং, বোলিং, অধিনায়কত্ব – সব দিকেই দশে দশ পাবেন মাশরাফি।
৩০তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই ওকসকে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে। অফ স্টাম্পের একটু বাইরে গুড লেংথ বল। কাট করতে চেয়েছিলেন ওকস। কিন্তু উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতের ধরা পড়তে হয় তাকে।
ইংলিশদের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হয় ডেভিড উইলি। শেষ উইকেট জুটিতে ৪৫ রান যখন বাংলাদেশের জয়ের পথে দীর্ঘশ্বাস বাড়াচ্ছে,তখনই আবারো অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির আবির্ভাব। বলকে নাসিরের কাছে তালুবন্দী করে ম্যাশ তুলে নেয় বাংলাদেশের বিজয়। বিজয়ে তিন উইকেট নিয়ে দারুণ অবদান রাখেন তাসকিন আহমেদ।
এরআগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে লোয়ার অর্ডারে মাশরাফির ২৯ বলে দুটি চার ও তিনটি ছয়ে ৪৪ রানে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
দলের বিপর্যয়ে যখন মাঠে নামলেন তখন রান ১৬৯, অপর প্রান্তে ক্রিজে প্রত্যাশার চাপ নিয়ে দলে ফেরা নাসির। সেখান থেকে নাসিরকে নিয়ে নতুন করে শুরু করলেন অধিনায়ক ম্যাশ। নাসিরকে নিয়ে গড়েন ৬৯ রানের মূল্যবান জুটি। নাসির খেলেন ২৭ বলে ২৭ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস। মূলত মাশরাফির ৪৪ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৩৮ রান করে বাংলাদেশ। তাছাড়াও দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে ক্রিস ওকস, জ্যাক বল ও আদীল রশীদ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।








