ভারত সফরে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়েছে ব্যাটিং। বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যানের আউট হওয়ার ধরণ ছিল খুবই দৃষ্টিকটু। যা দেখে যারপরনাই হতাশ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে ফিরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে বোর্ড সভাপতি ভেতরের জমাট বাধা আক্ষেপ প্রকাশ করলেন ক্যামেরা-রেকর্ডারের সামনে। জানালেন, ব্যাটসম্যানরা যেন আগামীতে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পারে সেজন্য নেয়া হচ্ছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যা দৃশ্যমান হবে ২-৩ মাসের মধ্যেই।
তুলে ধরা হচ্ছে বিসিবি সভাপতির আলাপচারিতা-
‘৪-৫ বছর আগেও সাহস নিয়ে খেলতাম’
আমার কাছে খুব আশ্চর্য লেগেছে সবার মতোই। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটা যদি বলেন। আগেই বলেছি, টস জিতে ব্যাটিং নেয়ার সিদ্ধান্তটা আমাকে অবাক করেছে। কারণ আগেরদিন দলের সাথে বসেছি। অধিনায়ক, কোচের সাথে কথা বলেছি। ওরা বলেছে অবশ্যই আমরা টসে জিতলে ফিল্ডিং নিব। এটাই ছিল সিদ্ধান্ত। ওদের যে বোলিং আক্রমণ, আমরা তো জানিই বিশ্বসেরা। সেটা হতেই পারে। আমরা টস হারলেও তো আমাদের ব্যাটিং দিতে পারত। কিন্তু ব্যাটিংয়ের যে অবস্থা দেখলাম, সত্যিই অবাক হয়েছি।
এই কারণে অবাক হয়েছি খেলায় হার-জিত থাকতেই পারে সেটা ব্যাপার না। কিন্তু মাত্রই টি-টুয়েন্টি খেলে আসলাম ওদের বিপক্ষে। কখনো মনে হয়নি আমাদের ব্যাটিংয়ের অবস্থা এমন হবে। বিশেষ করে যারা সিনিয়র প্লেয়ার আছে, তারা থেকে শুরু করে সকলেই মনে হচ্ছে ঘাবড়ে গেছে। ভয় পাওয়াটা এতদিন দেখিনি। ৪-৫ বছর আগেও সাহস নিয়ে খেলতাম। এবার কেনো জানি মনে হচ্ছে ভয় পাচ্ছে। সেটা একটা কারণ হতে পারে। তারপরও সবদিক বিবেচনা করে বললে বলব, এটা হতাশার ছিল।
‘কয়েকটা আউট দেখতে এত বিশ্রী ছিল, খুব খারাপ লেগেছে’
ইনজুরিটা আমাদেরকে ভালোই ভুগিয়েছে। যদি দেখেন প্রথম ইনিংসে কিছুটা ভালো খেলছিল লিটন দাস। দ্বিতীয় ইনিংসেও মোটামুটি খেলছিল, ইনজুরড হয়ে গেল। ওর বদলি আমরা নিলাম। কিন্তু যাকে নামানোর কথা ছিল, নামাতে পারিনি। সে আবার দুদিন আগে ইনজুরড। আমাদের ধারণা ছিল খেলার আগেই সে ফিট হবে। আগেরদিন জানতে পারলাম ফিট হয়নি। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে আমাদের দুজন কনকাশনের জন্য রিপ্লেস করতে হল। এখানে একটা ক্ষতি হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত যেটা হয়েছে, আমি জানি টেস্টে আমরা পেছানো, তারপরেও যেসব বলে যেভাবে আউট হয়েছে, কয়েকটা আউট দেখতে এত বিশ্রী ছিল, খুব খারাপ লেগেছে। মনে হয়েছে এতদিন ধরে ক্রিকেট খেলে এসব বল এভাবে মারতে গিয়ে যদি আউট হই, এটা খুব দুঃখজনক।
‘ঘরোয়ায় স্পিনাররা তো আর ডমিনেট করছে না’
ঘরোয়া ক্রিকেটের সমস্যা আমার মনে হয় না। এখন আমরা ৬ ইঞ্চি ঘাসে খেলছি। শুরু করেছি ৪ ইঞ্চি ঘাস দিয়ে। পেসাররা সব উইকেট নিচ্ছে। পেসাররা তো সুবিধা পাচ্ছেই। বেশিরভাগ উইকেট যদি দেখেন, পেসাররাই নিচ্ছে। স্পিনাররা তো আর ডমিনেট করছে না। ব্যাটিং অ্যাপ্রোচে সমস্যা তো অবশ্যই আছে। আমরা জানি না তা কিন্তু না। ভেবেছিলাম এতদিনে কিছু পরিবর্তন আসবে, কিন্তু আসেনি। সেজন্য অবশ্যই আমাদের টেস্ট দল নিয়ে ভাবতে হবে।
বাড়তি খেলোয়াড় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল কি না?
১৫ জনের বেশি? নিতে পারতাম। এর আগে নিয়েছিলাম। আপনারা অনেক লেখালেখি করেছিলেন এটার বিরুদ্ধে। কেন এত খেলোয়াড় নিয়ে যাচ্ছি? আমার মনে আছে এখনো।
বিরাট কোহলি বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে হবে…
এটা একদিক দিয়ে ঠিক। আবার পুরোপুরি ঠিক না। ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়ে লাভটা কী হবে? ধরেন আমরা এখন যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি, স্পোর্টিং উইকেট করছি, বাউন্সি করছি পেসারদের জন্য। একটায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল টুর্নামেন্ট খেলছে, সিরিজ খেলছে। আবার ইমার্জিং কাপ খেলছে। জাতীয় দল নাই। যেসমস্ত বোলার আছে তাদের সাথে ব্যাটিং করে কি শিখবে? আপনি কার সাথে তুলনা করছেন? আমাদের তো ওরকম বোলারও লাগবে। খালি পিচ তৈরি করলে তো হবে না। যাদের বল খেলে অভ্যস্ত হতে হবে। ওই মানের বোলার তো লাগবে। ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলারদের সাথে খেলে এসেছে এবার। তাই আমাদের বোলিংয়ের ধারটাও বাড়াতে হবে। আমরা এটা নিয়ে ভাবছি। এটা নিয়ে সত্যি সত্যি একটা পরিকল্পনা করেছি যেটা দুই-তিন মাসের মধ্যে দেখবেন। টেস্টে এ ধরনের পরিস্থিতি ফেস করতে আমরা লং টার্ম ও শর্ট টাইম পরিকল্পনা করেছি। আমার মনে হয় এটা ব্যাটিংয়ে কাজে দেবে।
পাকিস্তান সফর নিয়ে ইতিবাচক বিসিবি
এখনো পাকিস্তান ট্যুর নিয়ে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্ট পাইনি। হয়েছে কি, আসলে আমাদের দুটো দল তো সেখানে গিয়ে খেলেছে। একটা বয়সভিত্তিক দল গিয়েছে, পরে গিয়েছে মেয়েদের দল। কাজেই ধরে নেয়া যায় সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স থাকবে। এরমধ্যে অস্বাভাবিক কিছু যদি না ঘটে থাকে থাকলে সিকিউরিটি একই থাকবে। আলাদা হওয়ার সুযোগ নাই। সবার জন্য তো একই। তারপরও আমরা লিখিত প্রতিবেদন পাইনি। পেলে বলতে পারব।







