বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ব্যাংক তৈরি করা মানেই একটা লুটপাটের জায়গা তৈরি করা। গত আগস্ট মাসে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে তফসিলভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেছেন।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতিপ্রকৃতি-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, বাংলাদেশে যতগুলো ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে তার সিংহভাগই হয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে। হাজার হাজার কোটি টাকা এসব ব্যাংক থেকে লোপাট হয়ে গেছে।
গত আগস্ট মাসে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে তফসিলভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন ব্যাংকটি যেকোনো গ্রাহক থেকে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ দেয়াসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম করতে পারে।
বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, প্রবাসী ব্যাংক থেকেও কয়দিন পর একই ধাচে অর্থ বের করে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ব্যাংকে কিছু টাকা আসবে, আর সেগুলো রাজনৈতিকভাবে খরচ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অর্থ নিয়ে এই ব্যাংক তৈরি করা হয়। আর ব্যাংক তৈরি করাটা নি:সন্দেহে একটা লুটপাটের জায়গা তৈরি করা।
এই ব্যাংক সম্পর্কে রামরু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৯ মাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী গেছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৫ জন। কিন্তু প্রবাসীদের কল্যাণে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৮৬ প্রবাসীকে ৪১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অভিবাসন ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি (ডিসেম্বর) মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩৬৫ জন অভিবাসীকে মোট ৩৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ২৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেই হিসেবে বকেয়া ঋণ মাত্র প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
এই ব্যাংকের কাজের মূল্যায়ণ এখনও করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রবাসীদের মধ্যে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে ২০১১ সাল প্রতিষ্ঠি হয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। তখন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের মালিকানায় বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে এর অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ মালিকানা ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড।
বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বিশেষায়িত খাতের ব্যাংক। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূলধন রয়েছে ৪শ কোটি টাকা। শাখা রয়েছে ৬৩টি।








