অর্থনীতি

ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারী প্রায় ৬৮ হাজার

এই অর্থে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারী প্রায় ৬৮ হাজার

ফাইল ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটি টাকার আমানতকারী হিসাব সংখ্যা বাড়ছে।  সেইসঙ্গে বাড়ছে এসব হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণও।  আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোটি টাকার আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার ৮৩৪ জন।  বর্তমানে মোট কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৭২ জন।  যা এক বছর আগে ছিল ৬২ হাজার ৩৮ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।  ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোটিপতি আমানতকারী বাড়লে কিছুটা অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে যায়।  মূলত বিনিয়োগ করতে না পেরে সবাই আমানতমুখী হচ্ছে।  তবে ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই এই অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।  এতে অর্থনীতির আকার বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ হাজার ৮৭২ জন।  যা
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৬২ হাজার ৩৮ জন।  সেই হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ৫ হাজার ৮৩৪ জন কোটিপতি আমানতকারী।

তবে ২০১৭ সালের জুনের শেষে এই সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৮৯১ জন।  সেই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে তা কমেছে ১ হাজার ১৯ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি ছিল ৭০২ জন।  ২০১৭ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৮৫২ জন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক কোটি টাকা আমানত রাখা ব্যক্তি ছিলেন ৫৩ হাজার ৩৪৪ জন।  যা ২০১৬ সালের একই সময়ে ছিল ৪৮ হাজার ৮৯৭ জন।  এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪ হাজার ৪৪৭ জন।

সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।
সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এক কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৪৪ জন।  যা তিন মাস আগে ছিল ৫৪ হাজার ৩১৭ জন।

সেপ্টেম্বরে শেষে ৪০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন, এমন ব্যক্তি রয়েছেন ৪১৫ জন।  ৩৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ১৯৬ জন।  ৩০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ২৭২ জন।  ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৪৬৯ জন।  ২০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৭৯৯ জন।  ১৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন এক হাজার ২৯৬ জন।  ১০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ২ হাজার ৫২৪ জন।  ৩ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৭ হাজার ৭০৫ জন।

দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো না থাকার কারণে ব্যাংকে কোটিপতিদের আমানত বাড়ছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দেশে বিনিয়োগ পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।  সে কারণে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।  ফলে বিনিয়োগ বাড়ছে না।

জাতীয় উৎপাদনে আনুপাতিক হারে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ খুবই কম উল্লেখ করে মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, গত ৮/১০ বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে।  ২০০৮-৯ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।  অর্থাৎ গত ৮/৯ বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।

এতে কিছুটা অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ।  তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এতে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে।  অর্থাৎ অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ

সালেহ উদ্দিন বলেন, উদ্যোক্তারা তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন বিষয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে।  এছাড়া শেয়ারবাজারও অনিশ্চয়তার জায়গা।  তাই মানুষ বিনিয়োমুখী না হয়ে আমানতমুখী হচ্ছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যে দেশে হাজার হাজার কোটি চুরি হয়ে গেলেও মানুষ বলে এটা খুব বেশি কিছু নয়, সে দেশে কোটিপতি আমানতকারী বাড়লে তা নতুন আর কী খবর হতে পারে।

বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমানতকারীরা ব্যাংকে অর্থ রাখবে আর ব্যাংক তা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে।  ব্যাংক উদ্যোক্তাদের অর্থ সরবরাহ করবে।  তারা তা উৎপাদনমুখী খাতে ব্যয় করবে।  এতে আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে।  এভাবেই হওয়া উচিত।

বিষয়:বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ব্যাংকিং খাত

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…