ফেনীর পরশুরামে বন্যার পানি নেমে গেলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি কৃষক। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পরশুরাম উপজেলার বেশীরভাগ বীজতলা ডুবে যায়। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক ও ঋণগ্রস্ত কৃষকেরা।
পরশুরামে ৩০ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার প্রান্তিক কৃষকরাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
পরশুরাম পৌর এলাকার সোলিয়া গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়া জানান, আমরা বিভিন্ন ব্যাংক এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধানের বীজ রোপন করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে আমার সব বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমি কিভাবে ঋণ শোধ করব। আমরা সরকার থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা এখনো পাই নি।
স্থানীয় এমপি শিরীন আখতার জানান, মহুরী কহুয়া বাঁধের সিলোনিয়া বাঁধের অনেক জায়গা ভেঙ্গে গেছে। কৃষি এবং মৎস্য খাতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হানিফ-ই-হায়দার জানান, এবারের বন্যায় পরশুরামের ৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৭৫০ হেক্টর জমির বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মির্জানগর ইউনিয়নে ১২০ হেক্টর, পৌরসভাতে ২০০ হেক্টর, সিথোলিয়াতে ২৫০ হেক্টর ও বক্সমাহমুদে ১৮০ হেক্টর বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। ২৩৬২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। যার ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা।
হানিফ-ই-হায়দার আরও বলেন, আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতির পরিমাণ প্রেরণ করেছি। আশাকরি, সরকার এ ব্যাপারে আমাদের কৃষকদের সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন।







