ফুটবল একটা চক্রের মধ্য খেলা হয় এবং এটা ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের উত্থানে একটি নতুন প্রভাবশালী বাহিনী দেখাচ্ছে।
রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে ধারণা করা হচ্ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, মেসি এবং নেইমাররাই সেরা পারফর্মার হবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সের বিচারে লুকা মদ্রিচ, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকু, হ্যারি কেন ও কাইলিয়ান এমবাপের ছায়ায় ঢেকে আছেন।
এই তরুণ তারকারা তাদের জাতীয় দলের জন্য সম্ভব্য সব করেছেন এবং তারা সবাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মাঠে নামবেন। যদিও তাদের আগে নাম উচ্চারিত হওয়া তিন সুপারস্টার এখন রাশিয়াতেই নেই।
চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্য শুধু ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডই জানে বিশ্বকাপ ট্রফিটা আসলে কি জিনিস। ফরাসিরা ১৯৯৮তে এবং ১৯৬৬তে বিশ্বকাপ জেতে ইংলিশরা।
ক্রোয়েশিয়া ও বেলজিয়াম কখনোই বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়নি। যদিও দুটি দলই এর আগে একবার করে শেষ চারে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
মদ্রিচ এবং রাকিটিচ একটি গোল্ডেন জেনারেশনের নেতৃত্বে আছেন। যেখানে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি আকর্ষণীয় দল গড়েছে ক্রোয়েশিয়া। স্বাধীনতার পরপরই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল। সেই ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান দলটি মনে করে, তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে আরও সামনে যেতে পারে তারা।
ফাইনালে যাওয়ার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ইংল্যান্ডও। গ্যারেথ সাউথগেটের নির্দেশনায় এই দলটি এখন পর্যন্ত অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে এগিয়ে গেছে। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত টপ স্কোরার ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। গোলবারের নিচে বীরের মতো পারফর্ম করছেন জর্ডান পিকফোর্ড।
ইংল্যান্ড স্কোয়াডের মধ্যে নির্ভীকতার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যাতে অনুমান করা যাচ্ছে পূর্বের দলগুলোর ব্যর্থতার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তারা। রাশিয়াতে তাদের পারফরম্যান্স এটা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে বেলজিয়ামের সাফল্যে খুব সামান্যই বিস্ময়ের ব্যাপার আছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের ফুটবলাররাই সবচেয়ে প্রতিভাধর দল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তবে এর আগে খুব কম সময়ই নিজেদের সম্ভাবনা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পেরেছে তারা।
বেলজিয়ামের আগের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য সাবেক কোচ ও দেশটির তারকা ফুটবলার মার্ক উইলমটসকে দোষারোপ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল এবার খেলোয়াড়রা এগিয়ে এসেছেন এবং নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী ভালো পারফর্ম করছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একটি অসাধারণ ম্যাচ খেলেছেন এডেন হ্যাজার্ড। ওই ম্যাচে পুরো বিশ্বের নজরও কেড়েছেন চেলসি ফরোয়ার্ড।
সম্ভবত ফ্রান্সই একমাত্র দল যারা প্রত্যাশা পূরণ করে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও দলটি তাদের সেরা পারফর্মটা এখনও করতে পারেনি। ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশমকে একটু বেশি সাবধানী বলে দোষারোপ করা হচ্ছে। কিন্তু লুকাস হার্নান্দেজ, রাফায়েল ভারান, স্যামুয়েল উমতিতি এবং বেঞ্জামিন পাভার্ডের মতো তরুণ ডিফেন্ডাররা সর্বোচ্চমানের পারফর্ম করছেন। জাদুকরী সব মুহূর্ত তৈরি করছেন কাইলিয়ান এমবাপে এবং ভালো করছেন পল পগবাও।
মেসি ও রোনালদোর মতো খেলোয়াড়রা কখনোই শেষ হবেন না বলে মনে হতে পারে। কিন্তু পারেও। তবে সেটা এখন বললে একটু বেশি আগেই আগেই হয়তো বলা হবে। কিন্তু এই বিশ্বকাপ এখনও পর্যন্ত যা দেখিয়েছে, তাতে বলা বিশ্লেষকদের ধারণা, তাদের জায়গা নেয়ার জন্য খেলোয়াড়রা এরই মধ্যে মাঠে নেমে গেছেন।








