চট্টগ্রাম থেকে: খেলতে এসেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ। বিসিবি একাদশের হয়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে রয়ে গেলেন জাতীয় দলের সঙ্গে। হুট করে বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পাওয়ায় সাদমান ইসলাম অনিকের জন্য জার্সি তৈরি হয়নি এখনও।
মঙ্গলবার বিকেলে সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাদমান অনুশীলন করলেন বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের জার্সি গাঁয়ে। ঐচ্ছিক অনুশীলনে পাশের নেটেই তখন ব্যাট করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। অথচ হেড কোচ স্টিভ রোডসের পুরো মনোযোগ থাকল সাদমানকে ঘিরে। সিরিজের প্রথম টেস্টের ভেন্যুতে নেট অনুশীলনে কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে সাদমানের। টেকনিক নিয়ে হয়েছে কাজ।
‘আমার ডিফেন্সটা নিয়ে কথা বলেছিলাম আগে। কালকের ম্যাচে আমার ডিফেন্সটা দেখেছেন। উনি যেভাবে আমাকে ডিফেন্সের ব্যাপারে টেকনিক্যালি বলেছেন, সেভাবে যদি করতে পারি তাহলে আরও ভালো হয় এবং আরও বেশি টিকতে পারব, স্পিনটা আরও ভালো খেলতে পারব।’
বাঁহাতি ওপেনার সাদমান জাতীয় দলে সুযোগের দাবি জোরাল করেছিলেন ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসা আসরে ৬ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে করেছিলেন ৪০৬ রান। পেছনে ফেলেন পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক (৩৮২) ও সাউথ আফ্রিকার এইডেন মার্করামকে (৩৭০)। অথচ তাদের অনেক পরে ২৩ বছর বয়সে এসে বাংলাদেশ দলে ডাক পেলেন সাদমান।
‘অপেক্ষা তো করতেই হয়। জাতীয় দলে খেলা সবারই স্বপ্ন থাকে। যেমন আমি বিশ্বকাপের (অনূর্ধ্ব-১৯) পর এসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে সবখানে খেলে আসছি। এটাই লক্ষ্য ছিল যে, যেখানেই খেলবো সেখানেই পারফর্ম করতে থাকব। কোনো একদিন সুযোগ আসবে। যদি পারফর্ম করতে থাকি অবশ্যই কোনো একদিন সুযোগ আসবে।’
ওই যুব বিশ্বকাপে সাদমানের সতীর্থ ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবু হায়দার রনি, মেহেদী হাসান মিরাজ, জাকির হাসান, নাজুমল হোসেন শান্তরা। সেই দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার বাংলাদেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন সাদমানের অনেক আগেই।
কেউ কেউ তো টাইগার দলের অপরিহার্য সদস্যই হয়ে উঠেছেন। অপেক্ষায় থেকে সাদমান সময়টাতে নিজেকে গড়েছেন। খেলেছেন ৪২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। হয়েছেন পরিপক্ব। সঙ্গে বিশ্বাসটা রেখেছিলেন, সুযোগ একদিন ঠিকই আসবে। সেই সুযোগটি এল অবশেষে। এখন ২২ নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষেকের আশায় এ বাঁহাতি ওপেনার।
‘পরিণত হয়ে আসাটা আসলে অনেক জরুরী। যেমন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে আসার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা হয়তো একটু চিন্তা-ভাবনা করেই খেলতে হয় সবার। আমার কাছে মনে হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আর জাতীয় দলের পার্থক্য অনেক। কিন্তু যেহেতু অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি, তাই জানি কীভাবে ইনিংসটা গুছিয়ে নিতে হবে। এই বিষয়টি যদি আমার জানা থাকে তাহলে মনে হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটু হলেও ভালো করার সুযোগ থাকে।’
সোমবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের পেস সামলে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন সাদমান। ৭৩ রানের মাথায় হন রানআউট। টেস্ট দলের আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের সঙ্গে গড়েন ১২৬ রানের ওপেনিং জুটি।
লাঞ্চ বিরতির পর সৌম্য মারকুটে ব্যাটিং করলেও সাদমান ধৈর্য নিয়ে পড়ে থাকেন ২২ গজে। তার ১৬৯ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছয়ের মার। মাঠে থেকেই সাদমানের ইনিংসটি দেখেছেন কোচ রোডস। সন্ধ্যায় বিসিবি জানিয়ে দেয় টেস্ট দলে সাদমানের অন্তর্ভুক্তির কথা।







