স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার রহস্য উদঘাটনে তারা কাজ করছে, দ্রুতই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার রাত পৌনে এগারটার দিকে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মাঝে থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট। সেখানে তারা বিভিন্ন আলামতসহ ওই নারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে ওই বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভ থেকে শনিবার ফের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে সিদ্ধেশ্বরী ও ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে একযোগে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন: রুম্পার আত্মহত্যা করার প্রশ্নই আসে না। সে খুবই হাস্যোজ্জ্বল মেয়ে ছিল। গেল আট দিনের ব্যবধানে দুইজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হলো। প্রশাসনকে সুষ্ঠ তদন্ত করতে আমরা অনুরোধ করছি।
রুম্পার শিক্ষকরা বলেন: রুম্পা খুবই পরিশ্রমী ও সাধারণ মেয়ে ছিল। এমন মৃত্যু কখনোই মেনে নেয়া যায় না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: রুম্পার বাসা শান্তিবাগ আর তার মৃতদেহ পাওয়া গেল সিদ্ধেশ্বরীতে, সেখানে তার কোনো আত্মীয় স্বজন নেই, বা কেউ তাকে চেনে না। আমাদের সন্দেহ হয়েছে বলেই আমরা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছি। কোনো অপমৃত্যু মামলা করা হয়নি।
তিনি বলেন: এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি, রুম্পার মোবাইল ফোনসহ তার আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আমাদের তদন্ত চলমান আছে। দ্রুতই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হবে।
জানা যায়, রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বুধবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়। পরিচয় না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুম্পার স্বজনরা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
তার বাবা রোকন উদ্দিন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি হবিগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। রাজধানীর শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন রুম্পা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন: লাশের শরীরের আঘাত দেখে মনে হয়েছে, ওপর থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
রুম্পার স্বজনরা জানান: দুই ভাইবোনের মধ্যে রুম্পা ছিলেন বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে বলার মতো এখনো কিছু পাই নি। হত্যা সন্দেহেই তদন্ত প্রাথমিক কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই বিস্তারিত জানা যাবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর ধর্ষণের বিষয়টি জানা যাবে। আমাদের সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।










