বিশ্বকাপের পর এই সিরিজেই প্রথম দেখা দুদলের। মহাকাব্যিক ফাইনালের স্মৃতি খানিকটা ফিকে হয়ে এসেছে এতদিনে! ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর সেই স্মৃতিই ফের তাজা করল নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড। লর্ডসের উত্তেজনা অকল্যান্ডে ফিরিয়ে আনল বিশ্বমঞ্চের দুই ফাইনালিস্ট। এবার টি-টুয়েন্টিতে, যথারীতি কপাল পুড়েছে কিউদের। নির্ধারিত ওভারের খেলায় ম্যাচ টাই, পরে সুপার ওভারে জিতে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজও ঘরে তুলেছে ইংলিশরা।
পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ২-২’এ সমতা নিয়ে রোববার অকল্যান্ডে খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। বৃষ্টি বাধায় খেলা ১১ ওভারে নেমে এলেও প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিকদের সংগ্রহটা খারাপ ছিল না। ৫ ছক্কার সঙ্গে ৩ চারে ২০ বলে মার্টিন গাপটিলের ৫০, ৪ ছয় ও ২ চারে কলিন মুনরোর ২১ বলে ৪৬ রানে কিউরা রান তুলেছিল ৫ উইকেটে ১৪৬।
সিরিজ বাঁচাতে ওভারে করতে হবে ১৪-এর কাছাকাছি রান, এমন পরিসংখ্যানে শুরু থেকে ঝড় তুললেন জনি বেয়ারস্টো। ৫ ছয় ও ২ চারে ইংলিশ ওপেনারের ১৮ বলে ৪৭ রানে ইংল্যান্ড ৭ ওভারে তুলল ১০০ রান। তারপরও কাজটা বেশ কঠিন ছিল, বাকি চার ওভারে করতে হতো ৪৮। ছোট ছোট কিছু ইনিংসে শেষ ওভারে ব্যবধান দাঁড়াল ১৬তে।
জিমি নিশামের করা প্রথম দুই বলে স্যাম বিলিংস নিলেন তিন রান। চার বলে ইংলিশদের জিততে চাই আরও ১৩ রান। তৃতীয় বলে থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন টম কারেন। পরিসংখ্যান এসে দাঁড়ায় ৩ বলে ১৩ রানে। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিস জর্ডান।
জেতাতে না পারলেও জর্ডান জমিয়ে দিলেন ম্যাচ। নিজের প্রথম বলটাকে ফুল টস পেয়ে ট্রেন্ট বোল্টের মাথার উপর দিয়ে আছড়ে ফেলেন সীমানার ওপারে, পরের বলে নেন দুই। ইংল্যান্ডের জিততে শেষ বলে চাই ৫ রান। অর্থাৎ, ছয় না হলে হচ্ছেই না। নিশামের শেষ বলকে উড়িয়ে না ফেলে গড়িয়ে মাঠ ছাড়া করতে পেরেছেন জর্ডান। চার রানে ম্যাচ টাই, ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। ঠিক যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল!
বিশ্বকাপের সেই ফাইনালে সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করেছিল ইংল্যান্ড। এবারও করল। ব্যাট হাতে নামলেন বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক মরগান। দুজনে মিলে একটি করে ছয় হাঁকিয়ে কিউদের জন্য লক্ষ্য দাঁড় করালেন ১৮।
লর্ডসের সেই ফাইনালে সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে এবার আর সেই ভাগ্য হয়নি কিউদের, এই ওভারও টাই করতে পারলে নতুন নিয়মে আবারও সুপার ওভারে নামতে হতো দুদলকে।
স্বাগতিকদের হয়ে সুপার ওভারে ব্যাট করতে নেমেছিলেন টিম সেইফার্ট ও মার্টিন গাপটিল। বল হাতে ক্রিস জর্ডান। ম্যাচ টাইয়ের নায়ক ইংলিশ পেসার অলরাউন্ডার এবারও বাঁচিয়ে দিলেন দলকে। সেইফার্টকে ব্যাটিং প্রান্তে রেখে প্রথম তিন বলে দিলেন ৭ রান, চতুর্থ বলে করলেন আউট। পঞ্চম বলে গাপটিল মাত্র ১ রান নেয়ায় ম্যাচ ততক্ষণে ইংলিশদের হাতে। শেষ বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম কোনো রান নিতে না পারায় ৯ রানে সুপার ওভার জিতে ম্যাচ ও সিরিজ পকেটে পুরেছে ইয়ন মরগানের দল।









