ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। সুযোগ পাওয়ার পর এ অলরাউন্ডার বলছেন, দলে ফেরার জন্য তিনি যারপনাই ‘ক্ষুধার্ত’ ছিলেন।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টুয়েন্টি লিগে খেললেও ২০১৫ সাল থেকে এপর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাত্র একটি ওয়ানডে খেলেছেন রাসেল। চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে বিস্ময়কর পারফর্ম করছেন। আইপিএলের ১১ ম্যাচে ক্যারিবীয় হিটার রান করেছেন ৪০৬। স্ট্রাইকরেটটা রীতিমতো কপালে তোলার মতো, ২০৯.২৭। যেটা আসরের সর্বোচ্চ।
আইপিএলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়েছে বলে মনে করেন রাসেল, ‘বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে আমি মোটেই অবাক হইনি। আমি বেশ ভালো করছি। আমি জানি, এখানে যে কাজ ও পারফর্মটা করছি সেটা জাতীয় দলেও কাজে দেবে। আমি আসলে বিশ্বকাপের দিকে তেমন নজর দেইনি। নিজেকে বুঝিয়েছি, ওখানে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) যাই হোক না কেনো, আমি শুধু নিজের কাজটা করে যাব। সেটাই করেছি।’
বিশেষ করে দীর্ঘ ইনজুরির কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় দল থেকে বাইরে থেকেছেন রাসেল। ২০১৭তে অবশ্য ডোপিং কোড লঙ্ঘনে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিলেন। গত বছরের জুলাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। কিন্তু সেখানে ততটা উজ্জ্বল ছিলেন না।
চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে দলে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরির জন্য শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেননি। ওই সিরিজ ২-২তে ড্র করে ক্যারিবীয়রা। পরে ইংলিশদের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে খেলেছেন।
আইসিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে রাসেল বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমি খুবই ক্ষুধার্ত। সবশেষ আমি যখন দলে যোগ দিয়েছিলাম, তখনও হাঁটুর ব্যথা কমাতে দুটো ইনজেকশন নিয়েছি। কিন্তু খেলতে না পেরে খুবই হতাশ হয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো বসে বসে দেখেছি, দলের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’
এরপর আইপিএল ফর্মের কথা উল্লেখ করে ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে এমনটাই ক্ষুধার্ত, এখানে (আইপিএল) যেভাবে খেলছি, যেভাবে চার-ছক্কা মারছি ঠিক তেমনটাই।’
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সিরিজের স্কোয়াডে নাম নেই রাসেলের। আইপিএল শেষ করে সরাসরি তিনি যোগ দেবেন বিশ্বকাপ দলে সঙ্গে। ৩১মে ট্রেন্টব্রিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।








