গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হওয়া জাল নোট চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন উৎসবে জাল টাকা ও ভারতীয় রুপি প্রস্তুত করে বিক্রি করতো।
গত ২১ আগস্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল নোট চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে। ওই সময় তাদের থেকে প্রায় ৩৮ লাখ ভারতীয় জাল রুপি ও প্রায় ১২ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জাল নোট প্রস্তুতের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোঃ আব্দুল বাতেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার জাল টাকা প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা।
তিনি বলেন: তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প মেয়াদে বাসা ভাড়া করে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে জাল টাকা ও রুপি প্রস্তুত করে বিক্রয় করত।
‘‘পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাজধানীসহ আশপাশ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথা তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে’’
ডিবি’র এ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার আরো বলেন: ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে জাল টাকার ছড়াছড়ি দেখা যায়। যেহেতু কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে হাট-বাজারে গরু কেনাবেচা হয়। তাই কেনাবেচার ক্ষেত্রে নগদ অর্থের লেনদেন হয় ফলে জাল টাকার ছড়াছড়ি বেড়ে যায়।
ঈদে পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিন থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গরুর হাটে পুলিশের কন্ট্রোলরুমে ও বাজারের ইজারাদারদের কাছে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন থাকবে।

গ্রেফতার হওয়া মোঃ রফিকুল ইসলাম ওরফে খসরু, মোঃ লিয়াকত হোসেন ওরফে জাকির ও মোঃ রফিজুল ইসলাম-এর কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদির মধ্যে ছিল ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কাঠের ফ্রেম, বিভিন্ন রং, সাদা স্কস্টেপ, লেমিনেটিং মেশিন, ডেকোরেটিং পাউডার, এডাপটর ইত্যাদি।
ওই দিনের আরেকটি অভিযানে ডিবি (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল বিকালে ফার্মগেট ফুটওভার ব্রীজের নিচ থেকে জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের আরো ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
তারা হলো; মোঃ সোহাগ, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ শহিদুল ইসলাম ও মোঃ মোজাম্মেল হক।
গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ ও ১টি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।









