‘বিবর্তনবাদ’ এবং ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বকে সত্য ঘোষণা করে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন,ঈশ্বর জাদুর কাঠি হাতে থাকা কোন জাদুকর নন।
ভ্যাটিকান শহরের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি পোন্টিফিকাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে দেয়া এক বক্তব্যে পোপ ফ্রান্সিস এমন মন্তব্য করেন।
পোপ ফ্রান্সিস ব্যাখ্যা করে বলেন, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দুটি স্রষ্টার উপস্থিতিকে নাকচ করে না, বরং তত্ত্ব দুটিরই প্রয়োজন স্রষ্টাকে।
“যখন আমরা জেনেসিসে সৃষ্টি নিয়ে পাঠ করি, আমরা ঈশ্বরকে জাদুকর হিসেবে কল্পনা করার ঝুঁকি নেই, যার কাছে জাদুর কাঠি রয়েছে, যা দিয়ে যেকোন কিছু করা যায়। কিন্তু বিষয়টাতো এমন নয়। ”
তিনি বলেন, বিগ ব্যাং, যাকে আমরা আজ বিশ্বের উৎপত্তি হিসেবে ধরে নিয়েছি, তা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে না, বরং প্রয়োজনীয় করে। প্রকৃতিগতভাবে বিবর্তনবাদ সৃষ্টির মতের সাথে অসঙ্গত নয়, কারণ বিবর্তিত হওয়ার জন্যও তো সৃষ্টি প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে পোপের এই বক্তব্য সৃষ্টিতত্ত্ব এবং ‘ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন’ নিয়ে ‘ভ্রান্ত তত্ত্বগুলোর’ সমাপ্তি টেনেছে।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের মূল কথা হলো, সকল প্রজাতির প্রাণীরই কিছু অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে ক্রমাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভব ঘটেছে। আর ‘বিগ ব্যাং’ হলো মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সুপ্রাচীন বিন্দু থেকে মহাবিশ্ব তৈরির প্রক্রিয়া। মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য ‘বিগ ব্যাং থিউরি’র প্রবক্তা পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।
ঈশ্বরের উপস্থিতি ব্যাখ্যায় একটি ধর্মীয় যুক্তি হলে ‘ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন’। এর প্রস্তাবকরা একে ‘জীবনের উৎপত্তি নিয়ে প্রমাণভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করে। যদিও ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ বলে এর সমালোচনা রয়েছে।
কিন্তু পোপ দ্বাদশ পায়াসের প্রগতিশীল কাজের ধারাতেই থাকলেন পোপ ফ্রান্সিস। পায়াসও বিবর্তনবাদ ও বিগ ব্যাং তত্ত্বকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল আরও এগিয়ে বলেছিলেন, বিবর্তনবাদ ‘হাইপোথেসিসের চেয়ে বেশি কিছু’ এবং ‘কার্যত প্রমাণিত সত্য’।
আরও সম্প্রতি ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্পষ্টতই অনুমোদন করেছিলেন, ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন বিবর্তনকে সমর্থন করে। ২০০৫ সালে তার ঘনিষ্ট সহযোগী কার্ডিনাল স্কোয়েনবর্ন একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেখানে বলা হয়, সাধারণ উৎপত্তিগত দৃষ্টিতে বিবর্তন সত্য হতে পারে।
অধ্যাপক এবং ইতালির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এর প্রেসিডেন্ট জিয়োভান্নি বিগনামি, ইতালির একটি সংবাদ সংস্থাকে জানান, পোপের এই বিবৃতি তাৎপর্যময়। আমরা বিগ ব্যাং এর সরাসরি উত্তরসূরী, যা মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছে। সৃষ্টি থেকেই আসে বিবর্তন।
মিলানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলোসফি অব সায়েন্স এর অধ্যাপক গিউলিও গিওরেলো জানান, ফ্রান্সিস বিজ্ঞানের সাথে বিরোধ কমিয়ে আনতে চাইছেন।








