ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ভেন্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে এবছরের নভেম্বর মাসে শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর। তবে তার আগে গত আসরের ক্রিকেটারদের সব পাওনা এই মাসের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জমা রাখা ‘ব্যাংক-গ্যারান্টি’ ভেঙ্গে পরিশোধ করবে ক্রিকেট বোর্ড। বিপিএল নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।
চ্যানেল আই অনলাইন: বিপিএলে পরের আসরে কী চমক রাখছেন?
আইএইচ মল্লিক: আসলে চমক-টমক কিছু না, আমাদের চেষ্টা অবশ্যই বিপিএলকে এশিয়ান সাব-কন্টিনেন্টের একটি জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগে পরিণত করা। আমার মনে হয়, ইতিমধ্যে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। গত আসরেই চেষ্টা ছিলো আমাদের যে অংশগ্রহণকারী ফ্র্যাঞ্চাইজির সংখ্যা বাড়িয়ে টুর্নামেন্টটা করা। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এবার তাই আমরা সেদিকে নজর দিচ্ছি বেশি।
চ্যানেল আই অনলাইন: এর মানে দল বাড়ছে আরও?
আইএইচ মল্লিক: অবশ্যই, আমাদের ইচ্ছা প্রতিযোগিতামূলক একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। এবার তাই ফ্র্যাঞ্চাইজির সংখ্যা আমরা বাড়িয়ে নিচ্ছি। যদিও কয়টি যোগ হচ্ছে বা কারা আসছেন নতুন বিপিএলে তা চুড়ান্ত করা হয়নি এখনও। তবে প্রতিযোগিতা বাড়াতেই কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাজিকে সুযোগ দেওয়া হবে আসন্ন বিপিএলের আসরে।
চ্যানেল আই অনলাইন: শুধু টিম বাড়ছে? আপনারা কিন্তু বলেছিলেন ক্রিকেটকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেবেন বিপিএল দিয়ে?
আইএইচ মল্লিক: আমরা এখনও সেটা বলছি। আমাদের ইচ্ছা আছে এ বছর ভেন্যুর সংখ্যাও বাড়ানোর।
তবে সে ক্ষেত্রে খুলনা ও সিলেট স্টেডিয়ামের বিপিএলে ভেন্যু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। যদিও এখনও আমরা কোনকিছু চুড়ান্ত করিনি। তবে এই দুই থেকেই যেকোন একটি স্টেডিয়ামকে বেছে নেওয়া হবে বিপিএলের নতুন টুর্নামেন্টের জন্য।
চ্যানেল আই অনলাইন: তাহলে একটি কেনো, ভেন্যু আর বাড়াতে সমস্য কোথায়?
আইএইচ মল্লিক: আমরা আসলে শুধু মাঠের কথা চিন্তা করেই তা ঠিক করছি না। এখানে আসলে ফ্যাসিলিটিস, ট্রান্সপোর্ট, সময় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ইচ্ছা অনিচ্ছাও একটা ফ্যাক্টর। আর এসব কিছু বিবেচনায় নিয়েই টুর্নামেন্টের জন্য ভেন্যু চুড়ান্ত করা হবে। তবে অবশ্যই দর্শকের কথা বিবেচনায় রেখে বিপিএলকে ঢাকার বাইরে নেওয়া হবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনারা গত বিপিএলকে সফল বলছেন, কিন্তু ক্রিকেটারদের পাওনা কিন্তু এখনো পরিশোধ করেনি দলগুলো, সেটার কি হবে?
আইএইচ মল্লিক: দেখুন, আমাদের কাছে কিন্তু এখনও কোন প্লেয়ার এসে বলে নি যে তারা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে পেমেন্ট পাননি। মানে অফিশিয়ালি কেউই বিসিবির কাছে কোন কমপ্লেন নিয়ে আসেন নি।
যাই হোক, যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেন তার জন্যও আমাদের ব্যবস্থা রয়েছে। নিশ্চয় জানেন, আমরা গত বছর ফ্র্যঞ্চাইজিদের কাছ থেকে এক কোটি টাকার পে-অর্ডার এবং চার কোটি টাকার ‘ব্যাংক-গ্যারন্টি’ জমা রেখেছি। ক্রিকেটারদের বকেয়া পাওনা সেটা ভেঙ্গেই আমরা দিয়ে দেবো। আশা করি কোন ক্রিকেটারই বলতে পারবে না যে আমি টাকা পাই নি।
চ্যানেল আই অনলাইন: সেটা কবে নাগাদ তারা পাবেন জানতে পারি?
আইএইচ মল্লিক: আমরা আশা করছি এই মাসের মধ্যেই তাদের পাওনা পেমেন্ট ক্লিয়ার করা হবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: সেক্ষেত্রে নতুন বিপিএলে আবার নতুন করে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে?
আইএইচ মল্লিক: অবশ্যই, নতুন করে দিতে হবে। সেটাতো সম্পূর্ণ নতুন একটা টুর্নামেন্ট, সুতরাং আমরা সবকিছুইতো নতুন করে চাইবো।
চ্যানেল আই অনলাইন: বিপিএলের সময় কি পরিবর্তন হতে পারে ?
আইএইচ মল্লিক: না, নভেম্বরেই হবে। আপনারা জানেন ডিসেম্বরে বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ক্রিকেট সিরিজ রয়েছে, এর আগে ইংল্যান্ড আসার কথা। তাই আমরা মনে করছি নভেম্বরই বিপিএলের জন্য গ্রেট টাইম।
চ্যানেল আই অনলাইন: ইসমাইল হায়দার মল্লিক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য
আইএইচ মল্লিক: ধন্যবাদ, দেখা হবে।








