বিদেশী নাগরিক হত্যায় বিএনপি-জামায়াতের মদদ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করা হবে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদী সংগঠন, আইএস এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দু’টি আন্তর্জাতিক সম্মান নিয়ে দেশে ফেরার পরদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বেশির ভাগ প্রশ্নই ছিলো, বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই হত্যাকাণ্ডে আপনাদের যদি মনে হয় বাংলাদেশের সব অর্জন ও উন্নয়ন ধ্বংস হয়ে গেছে তাহলে তো বিএনপি-জামায়াত রাজাকারদের উদ্দেশ্যই সফল হলো। এসব ঘটনার পেছনে নিশ্চয়ই ওদের মদদ আছে। এমনটা করাই হচ্ছে যেন বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশ্নবোধক হয়। কিছু কিছু বিএনপি নেতা আগাম কিছু বক্তব্য দিয়েছে। তারপর এই ঘটনা ঘটলো। আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবো আর তারা চুপ করে বসে থাকবে সেটা আশা করেন কি করে? এখন জনগণের সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
এই দুই হত্যাকাণ্ডে আইএস-এর সম্পৃক্ততা নিয়ে খবর বেরুলেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও তাদের অস্তিত্ব নেই।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বাংলাভাই এসব তো সৃষ্টি করাই হয়েছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের কিছু কিছু মানুষওতো ওদিকে যাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে পড়ে। সেটাও সমস্যা। তবে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশে এখনো আইএস বা ঐ ধরনের কোনো তৎপরতা গড়ে উঠতে পারেনি। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান বাংলাদেশে হোক তা আমরা চাইনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা, যারা দেশের উন্নয়নকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ পুড়িয়ে মারার কি জবাব দেবে তারা? এটা বিশ্বনেতারা কখনোই ভালোভাবে নেয়নি। তারা কোনো সংকট বা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেনি, কেবল বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের অর্জনগুলোর জন্য।
বাংলাদেশের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের যথাযথভাবে বোঝানো হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







