একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে খোদ বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টেই দুটি মত পাওয়া যাচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান এবং নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও তারা আবার সংসদে যাওয়া নিয়ে দোদুল্যমান। একপক্ষ কোনোভাবেই সংসদে যাবে না, ব্যাপক আন্দোলন চায়।
আরেক পক্ষ জানাচ্ছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী ৭ জন সংসদ সদস্য শপথ নিতে পারেন। তাদের যুক্তি, সংসদে গিয়ে কথা বলা উচিত। জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংসদে সরকারের সঙ্গে যতোটা সম্ভব তর্ক-বিতর্ক করা উচিত।
ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুরুতেই বলেছেন, এই নির্বাচন তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।
ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা শপথ নিতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে দুই শীর্ষ নেতা দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন: আমরাতো নির্বাচনই প্রত্যাখ্যান করছি।
তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন: এটি আমরা দেখবো। আমরা বসে আলোচনা করবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন: আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি। আর শপথ নেয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচিতদের শপথ নিয়ে সংসদে কথা বলাটা আন্দোলনের অংশ হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দেখা যাক। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে আমরা তো ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।
তবে চাপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হারুনুর রশীদ সংসদে যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন।
সংসদে গিয়ে কথা বলা উচিত কিনা এমন প্রশ্নে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: আমরা যারা নির্বাচিত হয়েছি তারা তো অবশ্যই সংসদে যাবো। এতে কোনো সন্দেহ নাই। আমার বিশ্বাস। নির্বাচনের যে ফলাফল ও মানুষের প্রত্যাশা এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ভূমিকা রাখবো।
আর শপথ নেয়ার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত যা হয় তা মেনে নেবেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির অন্যতম এই এমপি।
‘ভোট বিপ্লবের’ ডাক দিয়ে নির্বাচনে আসা এই জোটের বড় শরিক বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন পাঁচটি আসনে। আর কামাল হোসেনের দল গণফোরাম দুটি আসনে জিতেছে।
ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৭ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তিনি দুর্নীতি মামলায় সাজা নিয়ে কারাগারে থাকায় বিকল্প প্রার্থী হয়েছিলেন ফখরুল।
ফখরুলের ধানের শীষ বগুড়ায় জয় পেলেও তার নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নৌকার কাছে হেরে গেছে।
বগুড়া-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ধানের শীষে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদসয হয়েছেন।।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুর রহমান ৮৭ হাজার ১৬৫ ভোট পেয়ে হারিয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে মোটরগাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইমদাদুল হককে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ধানের বিএনপির আমিনুল ইসলাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হারুনুর রশিদ জয়ী হয়েছেন বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের আবদুল ওদুদকে হারিয়ে। হারুনের ধানের শীষে পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬১ ভোট।
মৌলভীবাজার-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনে গণফোরামের মুকাব্বির খান দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে জয়ী হয়েছেন ৬৯ হাজার ৪২০ ভোট পেয়ে।
আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি দলের প্রার্থীরা আজ শপথ নিয়েছেন৷
সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান। সেই হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো সময় পাচ্ছে।







