আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ ২২ শর্তে এই জনসভার অনুমতি দিয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংবিধানের ভেতর থেকেও আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে ‘গ্রহণযোগ্য’ করা যায়, সেই বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেয়া হতে পারে আজকের সমাবেশ থেকে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশ সফল করতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ ঢাকাবাসীকে যথাসময়ে সমাবেশে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।
জনসভা থেকে দলের শীর্ষ নেতারা আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা ছাড়াও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কী করা হবে তা নিয়েও ১২ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরবে। কার্যত, এই জনসভার মাধ্যমে পুরো অক্টোবর জুড়েই রাজপথে সরব থাকতে চায় বিএনপি।
এছাড়া সংবিধানের ভেতর থেকেও আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে ‘গ্রহণযোগ্য’ করা যায়, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিএনপি। আজ জনসভায় সেটি তুলে ধরা হতে পারে।
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটি প্রস্তাব দেয়া হতে পারে আজকের জনসভা থেকে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা কীভাবে সংবিধানের ভেতরে থেকেই নির্দলীয় রাখা যায়, সে জন্য দলের আইনজীবী নেতারা একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছেন।
‘প্রস্তাবে সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ার কথা বলা আছে। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে সংবিধান সংশোধন করার দাবিও থাকবে।’
দলীয় এমন ভাবনার কথা কয়েকদিন আগে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ প্রকাশ্যেই বলেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছিলেন। সেটা কি সংবিধানে ছিল? ছিল না। পরে একাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেটাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এখানেও তাই হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চাই। শিগগিরই আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিও চাই। তাকে সঙ্গে নিয়েই একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাব।
প্রায় এক বছর পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। এই সমাবেশ যত সম্ভব বড় করে কর্মী সমর্থকদেরকে আত্মবিশ্বাসী করার পাশাপাশি সরকারকেও বার্তা দিতে চায় বিএনপি।








