আবারও ভয়াবহ বায়ু দূষণের শিকার ভারতের রাজধানী দিল্লী। গাঢ় ধূসর রঙে ছেয়ে গেছে পুরো দিল্লীর আকাশ। দিল্লীর কিছু এলাকায় দূষণের মাত্রা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ায় চারপাশ ছেয়ে গেছে ধোঁয়াশায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের মেডিকেল অ্যাসোশিয়েশন(আইএমএ) রাষ্ট্রের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে এবং সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে দ্রুত এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
এরই মধ্যে বুধবার দিল্লির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার এবং বড় শিক্ষার্থীদের কোনো অ্যাসেম্বলি বা স্কুলের বাইরের কোনো কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি ওয়েদার ফোরকাস্টিংয়ের তথ্যমতে দিল্লির বাতাসে ছোট ছোট কণার উপস্থিতি পার কিউবিক মিটারে ৭০০ মাইক্রোগ্রামে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মঙ্গলবার। আর এসব কণা শ্বাসের মধ্যে দিয়ে লাঙসে ঢুকে গিয়ে ক্ষতি করে শরীরের।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ বিষয়ে আলোচনা করতে একটি প্যানেল গঠন করেছেন। তারা পার্কিং ফি বাড়িয়েছেন চারগুণ যেন মানুষ নিজস্ব কার ব্যবহার থেকে বিরত থাকে এবং মেট্রোর ভাড়া কমিয়ে দিয়েছেন।
দিল্লির মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তার শিক্ষামন্ত্রীকে কয়েকদিনের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
প্রতিবছরের শীতকালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষকরা তাদের মাঠ পরিস্কারের জন্য ফসল কাটার পরে খরকুটোতে আগুন দিলে এই দূষণের সৃষ্টি হয়। বাতাসে ভেসে আসায় বিগত কয়েক বছর থেকেই দূষণের শিকার হচ্ছে দিল্লি। অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, এখন খুব কম কৃষক এই কাজ বন্ধ করছে। কোনো বিশেষ উৎসবে পটকা বাজির ব্যবহারও বাড়াচ্ছে দূষণ। সমস্যা সমাধানে অক্টোবর থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যেমন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা বড় পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়া, তবে তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
সমস্যার এখন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান দিল্লির বাসিন্দারা।








