নিজের অসাধারণ রূপ অব্যাহত রেখেছেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। তার একার চার গোলের সঙ্গে অন্য দুজনের গোল মিলিয়ে রেড স্টার বেলগ্রেডকে ৬-০তে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ ‘বি’তে শীর্ষস্থান অর্জন করার পাশাপাশি নকআউটও নিশ্চিত করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
বায়ার্নের গোল উৎসবের রাতে কষ্টে জিতেছে জুভেন্টাস। প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে এগিয়ে থেকেও জয় পায়নি জুভরা। তবে ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ঠিকই জয় আদায় করে নিয়েছে। অবিশ্বাস্য এক গোল করেছেন পাওলো দিবালা। দুরূহ কোণ থেকে নেয়া তার ফ্রি-কিক গোলেই জয় পায় ইতালিয়ান জায়ান্টরা। ১-০ গোলের স্বস্তির জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে নাম লেখায় ‘তুরিনের বুড়িরা’।
বায়ার্নের হাফডজন গোলের শুরুটা করেন লিওন গোরেৎজকা। ১৪ মিনিটে লিড পায় অতিথিরা। এরপরই লেভানডোভস্কির ১৪ মিনিটের তুফান। ৫৩, ৬০ মিনিটে গোলের পর ৬৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৬৭ মিনিটে করেন চতুর্থ গোল। পরে ৮৯ মিনিটে বেলগ্রেডকে শেষ পেরেক ঠোকেন কোরেন্টিন টোলিসো।
এক হালি গোল করার পথে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ এক রেকর্ড করেছেন লেভানডোভস্কি। সবচেয়ে কম সময়ে চার গোল করার রেকর্ড গড়েন ৩১ বছরের পোলিশ সুপারস্টার। লিওনেল মেসির পর তিনি দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুইবার চার গোল করলেন। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে চার গোল করেছিলেন।
লেভানডোভস্কি এখন বায়ার্ন এবং ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। বায়ার্নের জার্সি টমাস মুলারের সমান ৪৩ ও বরুসিয়ার হয়ে মার্কো রিউসের সমান ১৭ গোল রয়েছে তার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার তৃতীয় হ্যাটট্রিক।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন লেভানডোভস্কি। ২০ ম্যাচে এরইমধ্যে করেছেন ২৭ গোল। লিগে ১৬, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০ ও জার্মান কাপে একটি গোল করেছেন।
পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বায়ার্ন। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে টটেনহ্যাম হটস্পার। গ্রুপের বাকি দুদলের পয়েন্ট যথাক্রমে তিন ও এক।
এদিকে, ঘরের মাঠে এদিন ম্যাচের নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল জুভেন্টাস। অ্যারন রামসের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করে কোণাকুণি শট নিয়েছিলেন পাওলো দিবালা। ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন অ্যাটলেটিকো গোলকিপার ইয়ান ও’ব্লাক।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে কিয়েরেন ট্রিপিয়েরের পাস থেকে দূরপাল্লার দারুণ এক শট নিয়েছিলেন সাউল নিগুয়েজ। অ্যারন রামসের গায়ে লেগে দিক বদলে বল জালের দিকেই যাচ্ছিল। কোনোমতে ফিরিয়ে দলকে রক্ষা করেন জুভ গোলকিপা সজেনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অবিশ্বাস্য গোলটি করেন পাওলো দিবালা। ডানপ্রান্তে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি-কিক পায় জুভেন্টাস। প্রায় পাঁচ ডিগ্রি মতো কোণ থেকে জোরাল এক শটে ও’ব্লাককে বোকা বানান আর্জেন্টাইন তারকা।
৫০ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলায় বল পেয়ে ভালো ভলি নিয়েছিলেন সাউল। গোলরক্ষক সেজনি ছিলেন সতর্ক। ধরে ফেলেন সে শট। ১০ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। পাল্টা আক্রমণে নিজেদের অর্ধ থেকে একেবারে ফাঁকায় বল নিয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে নেয়া শট লক্ষ্যে থাকেনি।
৬৭ মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় অ্যাটলেটিকো। দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন বের্নাদস্কি। কিন্তু বারপোস্টে লেগে তা ফিরে আসে। ছয় মিনিট পর সুযোগ ছিল অ্যাটলেটিকোরও। ফাঁকায় হেড দেয়ার সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মোরাতা। ম্যাচের শেষদিকে সমতায় ফেরার দুর্দান্ত সুযোগ মিস করে অ্যাটলেটিকো। খালি গোলবারেও বলে টোকা দিতে পারেননি কোনো খেলোয়াড়।
পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় ও একটি ড্রয়ে জুভেন্টাসের সংগ্রহ ১৩ পয়েন্ট। সমান সংখ্যক ম্যাচে দুটি জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে অ্যাটলেটিকো। খুব একটা সুবিধাজনক স্থানে নেই তারা। কারণ তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বুন্দেসলিগার দল বেয়ার লেভারকুসেন। এদিন লোকোমোটিভ মস্কোর মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে তারা। পাঁচ ম্যাচের তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। নকআউটে যেতে হলে পরের ম্যাচে লোকোমোটিভ মস্কোর বিপক্ষে জিততেই হবে অ্যাটলেটিকোকে।









