ঢাকা-আরিচা-খুলনা রুটে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ডাকাতির অভিযোগে আটক সহকর্মীদের মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে ২০ মে থেকে ধর্মঘট পালন করছে খুলনা অঞ্চলের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা।
টানা ধর্মঘটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। ভোগান্তির মুখে অনেকে বিকল্প পথে রওনা হলেও অধিকাংশ যাত্রীকেই যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফুল রহমান জানান, অফিসের জরুরি কাজে ঢাকা যেতে হবে। খুলনা-আরিচা রুটের বাস বন্ধ থাকায় অন্য রুটেটর বাস ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। দুই হাতে দুটি ব্যাগ নিয়ে যশোর যেতে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষা করছিলেন রমিছা খাতুন (৭০)। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে যশোরে থাকে। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে মংলা থেকে খুলনা এসেছেন। ওই পথে গাড়ি না চলায় কীভাবে মেয়ের বাড়ি যাবেন, তিনি সেই চিন্তাই করছেন।
যশোর রুটে দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নসিমন, ইজিবাইক ও টেম্পোতে করে যশোর যাচ্ছেন।
খুলনা মহানগরের রয়েলের মোড়ে দেখা যায়, সেখানকার খুলনা-আরিচা-ঢাকা রুটের চলাচলকারী বাসের কাউন্টারগুলো খোলা। কিন্তু টিকিট বিক্রি না করায় অনেক যাত্রী টিকিট কিনতে এসে ফিরে গেছেন। এমনই একজন গৃহিণী মিতু রহমান। তিনি জানান, অসুস্থ বোনকে দেখতে ঢাকার সাভারের যেতে হবে তাকে। আরিচা হয়ে কোনো বাস না চলায় তিনি রাতের ট্রেনে যেতে হবে তাকে।
১৯ মে সকালে ফরিদপুরের মধুখালীতে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে ২০ মে থেকে খুলনা অঞ্চলের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক আলী আকবর লিখিত বক্তব্যে বলেন, সোহাগ পরিবহনের বাসটিতে ডাকাতির পর চালক আয়নাল হোসেন বাসটি নিয়ে থানায় হাজির হন। এসময় তিনি ডাকাতির বিষয়টি উল্লেখ করে মামলা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
অথচ চালক আয়নাল, সহকারী অপু ও চেকার রবিউলকে আসামি করে ডাকাতির মামলা করে তাদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহন নেতারা।
তাদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালীর ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও ফরিদপুর থেকে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ১৮টি রুটে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় পরিবহন শ্রমিক নেতারা।






