স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে একটি গিরিখাত থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় এক ব্রিটিশ দম্পতিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাইকিং করতে গিয়ে তারা আগুনের কবলে পড়েছিলেন। এদিকে দাবানলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পুড়ে গেছে ৬ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের পর বেদার এলাকার পুড়ে যাওয়া ভূখণ্ডে জীবিত বা আটকে পড়া মানুষদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যরা ওই দম্পতিকে খুঁজে পান। তারা একটি গিরিখাতের নিচে অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এবং তাদের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সার্জেন্ট পেদ্রো বারে জানান, প্রথমে তারা দূর থেকে একটি শব্দ শুনলেও সেটিকে প্রতিধ্বনি বলে মনে হয়েছিল। পরে সন্দেহ হওয়ায় পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে গিরিখাতের নিচে দম্পতিটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তা রাফায়েল জিয়া বলেন, আহত অবস্থায় সাহায্যের জন্য তাদের ডাকতে পারাটাই ছিল অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আটজনের মধ্যে রয়েছেন এই ব্রিটিশ দম্পতি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি স্পেনের অন্যতম প্রাণঘাতী দাবানলে পরিণত হয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০০-এর বেশি দমকলকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবানলের কারণে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি বিভাগের প্রধান আন্তোনিও সাঞ্জ বলেন, আগুন এখনও জটিল অবস্থায় রয়েছে এবং এর বিস্তার পুরোপুরি থামানো যায়নি। তবে দমকলকর্মীরা আগুনকে মহাসড়ক অতিক্রম করে উপকূলীয় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ পরীক্ষা চালাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের বেশিরভাগই ব্রিটিশ ও বেলজিয়ান নাগরিক, তাদের মধ্যে একজন স্প্যানিশ নাগরিকও রয়েছেন।

অন্যদিকে, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিভিল গার্ড। কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সরিয়ে নেওয়ার আদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।







