দেশের কিছু জেলায় সম্প্রতি চন্দ্রবোড়া বা রাসেল’স ভাইপার সাপের কামড়ে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাপের কামড়ে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ নেই কেন? সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি) জরিপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর ৪ লাখ ৩ হাজার ৩১৭ জন মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় এবং এতে ৭ হাজার ৫১১ জন মানুষ মারা যায়। মোট আক্রান্তের ৯৫ ভাগই হয় গ্রামে। যেখানে প্রতিটি সর্পদংশনে চিকিৎসার জন্য দংশিত ব্যক্তির প্রায় ২০০০ টাকা ব্যয় হয়।
এমন বাস্তবতায় সাপের কামড়ে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ নেই কেন? সেই প্রশ্ন তোলা হাস্যকর কিংবা অপ্রাসঙ্গিক নয় এই কারণে যে: দেশের কোন নাগরিক বাঘ, হাতি, কুমির, ভাল্লুক বা সাফারী পার্কে বিদ্যমান বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হলে বর্তমানে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনী সুযোগ রয়েছে। যেখানে বাঘ, হাতি, কুমির, ভাল্লুক বা সাফারী পার্কে বিদ্যমান বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হলে “বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা- ২০২১” অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিন লক্ষ টাকা, গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনধিক এক লক্ষ টাকা এবং সরকারি বনাঞ্চলের বাহিরে লোকালয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষেত্রে অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।

এদিকে আমাদের দেশে সাপের কামড়ে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের বিধান নেই, কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতে এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুয়ায়ী সাপের কামড়ে মৃত্যুকে বেশিরভাগ রাজ্যে দুর্যোগ মৃত্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সাপের কামড়ে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২’ অধীনে যে ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা- ২০২১’ করা হয়েছে সেখানে সাপের কামড়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যেহেতু বিধিমালা অনুযায়ী বাঘ, হাতি, কুমির, ভাল্লুকের আক্রমণে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে সেক্ষেত্রে সাপের কামড়ে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারটি প্রাসঙ্গিক।’








