ভিয়েতনামের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. ড্যাং ডিন কুই বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক ঐতিহ্যের। বাণিজ্যের কোন কোন ক্ষেত্রে উভয় দেশ প্রতিযোগী। তবে রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনাকেই কাজে লাগাতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইর সভাকক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
ড্যাং ডিন কুই সে দেশের উচ্চ পর্যায়ের ১৪ জন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্চে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে সফর উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এফবিসিআিই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. মি. ট্রান ভান খোয়া, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ।
ড্যাং ডিন কুই বলেন, বাণিজ্যের কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম প্রতিযোগী। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাণিজ্য সম্ভাবনাকেই কাজে লাগাতে হবে।
দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নানা দিক তুলে ধরে প্রায় একই কথা বললেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিযোগী। তবে অনেক ক্ষেত্রেই যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব দুই।
আগামী মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রাণ দাই কুয়াং। এ সফরে তার সঙ্গী হবে দেশটির ১০০টি প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর একটি প্রতিনিধি দল। আসন্ন সফরে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখবেন।
৪-৬ মার্চ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে আয়োজন করা হবে ‘বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বিজনেস ফোরাম’। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ফোরামে অংশ নেবে।
এফবিসিসিআই জানিয়েছে, ভিয়েতনাম বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চাইছে। তারা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা পর্যবেক্ষণ করবে।এ সময় তাদের মধ্যে আসন্ন সফর পরিকল্পনাসহ ভিয়েতনামের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ ভিয়েতনামে রপ্তানির চেয়ে সেদেশ থেকে প্রায় ৬ গুন বেশি পণ্য আমদানি করে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভিয়েতনামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে আমদানি করে ৪১ কোটি ২২ লাখ ডলারের পণ্য। ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হলো— কৃষি, পাট ও চামড়াজাত পণ্য এবং ওষুধসামগ্রী। আর ভিয়েতনাম থেকে এ দেশে মূলত খনিজ দ্রব্য, বস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও প্লাস্টিক উপাদান ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আনা হয়।








