প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমৃদ্ধি এবং লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টায় শরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
রোববার জেদ্দা চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্টির (জেসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য পূরণে আমি সৌদি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা নেতৃবৃন্দকে আমাদের দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সমৃদ্ধি এবং লভ্যাংশের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে ৫ দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এখন ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটালাইজড জ্ঞান ভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পথে রয়েছে।’
বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতি প্রসঙ্গে তুলে প্রধানমন্ত্রী বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের দেয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আইন করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাক্স হলিডে,যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর রেয়াত, রয়্যালটির রেমিটেন্স, শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত প্রত্যাহার নীতি, লভ্যাংশ ও পুঁজি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের শিল্প খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্র, চামড়া শিল্প, পাট, সিরামিক, পেট্রো-কেমিকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস, শিপ বিল্ডিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিক পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি এবং মেরিন ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প, হাইটেক ম্যানুফেকচারিং ও মাইক্রো প্রসেসরের মত প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এ সময় জেসিসিআই ভাইস চেয়ারম্যান মাজেন এম ব্যাটারজি তার বক্তৃতায় দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ ‘সেকেন্ড হোম’ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখার জন্য জেসিসিআই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়ী দল পাঠাবে করবে।’ 
দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে জেসিসিআই সহ সভাপতি বলেন, এর পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বোঝাপড়া আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.আবুল কালাম আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







