মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে করা মন্তব্যের স্বপক্ষে সাফাই গেয়ে বাংলাদেশের প্রতিবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে যুদ্ধাপরাধী সাকা-মুজাহিদের ফাঁসির পর পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য করে ‘অমূলক দাবি’ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। উল্টো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘মানহানী’র অভিযোগ এনেছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের নামে গণহত্যা চালানো দেশটি।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে সাউথ এশিয়া এন্ড সার্ক-এর ডিরেক্টর জেনারেল তলব করে। তাকে জানানো হয়; বাংলাদেশের ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘অমূলক’ অভিযোগ অস্বীকার করছে পাকিস্তান।
তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ কাজি খলিলুল্লাহ’র বরাত দিয়ে দেশটির ডন পত্রিকা জানায়, বাংলাদেশের প্রতিবাদের জবাব দিতেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নেয়া হয়।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা অতীত ভুলে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। অথচ দুঃখজনক যে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে’।
যুদ্ধাপরাধী সাকা-মুজাহিদের ফাঁসির পর ‘বিরক্ত’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিভেদ ভুলতে পাকিস্তানের জন্ম ইতিহাস টেনে ধর্মীয় পরিচয় মনে রাখার কথাও বলেন।
খলিলুল্লাহ বলেন, ‘১৯৪৭ সালে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জন্ম নেয়ার পেছনে দুই দেশের মানুষের ‘সংগ্রামের’ কথা আমাদের মনে রাখা উচিৎ’।
গত ২২ নভেম্বর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়ত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার এইচ. ই সুজা আলমকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে পাকিস্তান ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাস।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, আমরা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুজাহিদের ‘অনাকাঙ্খিত’ ফাঁসির বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। পাকিস্তান এ ধরণের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ’।







