মাশরাফির এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়কত্বের ভার সামলেছেন সাকিব। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি অবশ্য বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। এবার অপেক্ষা নিউজিল্যান্ডের। বুধবার কিউইদের বিপক্ষে আবার নিজেদের স্মৃতিবিজড়িত এক মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে যেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাবলিনের এই ক্লনটার্ফেই নেমেছিল টইগাররা। ম্যাচটি ছিল মাঠটিরই অভিষেক ওয়ানডে।
আগামী ১৭মে ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড পরীক্ষা টাইগারদের। এই মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে নেমেছিল লাল-সবুজরা। ম্যাচটি জেতা হয়নি। ৭ উইকেটে হেরেছিল লাল-সবুজরা। ওই বিশ্বকাপের পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে টাইগার দল।
বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছে। সাফল্যের গ্রাফটা ঊর্ধ্বগামী। গত ম্যাচের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিবও তাই নিউজিল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে বেশ আশাবাদী। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে তামিম-মাহমুদউল্লাহর প্রতিরোধ দেখে আত্মবিশ্বাসটা আরো বেড়েছে তার।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের কথা বলার সঙ্গে সাকিব সেটি থেকে উতরে যাওয়ার টোটকাও দিলেন, ‘যেরকম কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত, প্রথমদিকের পরিস্থিতি ছিল তার পুরোপুরিই উল্টো। খুব কঠিন ছিল কন্ডিশনটা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বল যত পুরনো হয়েছে, উইকেটও ব্যাট করার জন্য ততটা সহজ হয়ে এসেছে। অভিজ্ঞতা ভালোই হল। আমরা এখন নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’
নিউজিল্যান্ড ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক থাকছেন না সাকিব। ফিরছেন নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। ২০১৫ বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই মাশরাফির নিষেধাজ্ঞায় অধিনায়কত্ব করতে হয়েছিল সাকিবকে। তাতে জেতা হয়নি। স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ যাত্রায় ম্যাচটা খুব কাছে যেয়ে হেরে বসেছিল টাইগাররা। গত কিউই সফরে সবকটি ম্যাচ হারের স্মৃতি তো টাটকাই। তবুও এবার ফল ভিন্ন হওয়ার পথ দেখছেন সাকিব।
সাকিব আগেরবার যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করেছিলেন, তাতে দারুণ ব্যাট করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। হ্যামিলটনে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংসের ম্যাচে অধিনায়ক সাকিব। অধিনায়ক হিসেবে আইরিশদের বিপক্ষে নামার ম্যাচেও অভিজ্ঞ সতীর্থের থেকে শুভবার্তাই পেলেন তিনি। সেটা দলের জন্য স্বস্তিরও। সাকিব অধিনায়ক হলেই মাহমুদউল্লাহ জ্বলে ওঠেন কিনা সেটি নিয়ে মজার বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম-রিয়াদের লড়াই করে স্বরূপে ফেরার বিষয়টি স্বস্তিই যোগাচ্ছে সাকিবকে।
ডাবলিনের মালাহাইড স্টেডিয়ামের পুরু সবুজ ঘাসের আস্তরে যখন মাঠ আর উইকেট আলাদা করা দুষ্কর, তখন দলের বিপর্যয়ে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ। ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা টাইগারদের বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তামিমকে সঙ্গী করে ৮৭ রানের জুটি গড়ে। সাকিব মনে করছেন, ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হলে বাংলাদেশই হয়ত এগিয়ে থাকত স্বাগতিকদের চেয়ে।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল জানিয়ে টাইগার অলরাউন্ডার বললেন, ‘তামিম দারুণ খেলেছে। এই উইকেটে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রয়োগ করেছে। মাহমুদউল্লাহর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ওদের জুটিটা ম্যাচের চেহারা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও আমরা হাতে তুলে নিয়েছিলাম।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সেটারই ধারাবাহিকতা দেখতে চান সাকিব। আইরিশদের বিপক্ষে পাগলাটে শট খেলে উইকেট ছুঁড়ে আসা এই অলরাউন্ডার নিশ্চয় নিজের ভুলও শোধরানোর প্রতিজ্ঞা আঁটছেন। কিউইদের বিপক্ষে জ্বলে ওঠার ইতিহাস আছে তারও। দলটির বিপক্ষে পারফরম্যান্স উজ্জ্বল এই অলরাউন্ডারের। ১৮ ম্যাচে ৩৩ উইকেট। আর ব্যাট হাতে দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে রান ৪৩৬।







