লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের বিশাল উল্লম্ফন কি আসলেই বাস্তবতা প্রকাশ করে? এটাই কি সঠিক চিত্র? নাকি এটা শুধুই একটি পরিসংখ্যান?
লিঙ্গ সমতা নিয়ে সর্বশেষ বিশ্ব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ কারে নারী এবং নারীকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ চেলছে।
লিঙ্গ সমতা নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ১৪৪টি দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ২৫ ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭২ নম্বরে। এবারের তালিকায় ৪৭ তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশে। দক্ষিণ এশিয়ায় লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের অবস্থানও সবার উপরে।
তালিকায় ভারত, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্টটিকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছেন নারী নেত্রী আয়েশা খানম। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: এটি শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়। একটি দেশের পরিস্থিতিকেও তুলে ধরে। দেশের অনেক অবস্থানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সেই জায়গা থেকে আমরা অনেক উন্নত হয়েছি, কিন্তু এখনো সেই জায়গাগুলোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসনে অনেক বদল এসেছে কিন্তু আইনী প্রক্রিয়াতেও অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। আগে যে পরিমাণ নারী বাংলাদেশে কর্মরত ছিল, এখন সেই পরিমাণটা বেড়েছে অনেকখানি। সেই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আসছে। আর সেই তথ্যটাই দিচ্ছে ওই প্রতিবেদন।

নারী বিষয়ক পোর্টাল ‘উইমেন চ্যাপ্টার’ সম্পাদক সুপ্রীতি ধর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যদিও এটা একটা পরিসংখ্যান, তবে এটা অবশ্যই নারীর ক্ষমতায়নে একটি ইতিবাচক দিক। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এই তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে। এখন নারীরা অনেক বেশি কর্মক্ষেত্রে আসছে। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রগুলোতে নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
‘সেই জায়গাগুলোতে এখন আরো বেশি নজর দেওয়ার সময় এসেছে।’
বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের জায়গাটা এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে সুপ্রীতি ধর বলেন, সেই জায়গাতে অনেক বেশি কাজ করতে হবে। তবে মেয়েদের পরিবর্তন আনতে চাইলে এখন মেয়েদের ডিসিশন মেকিংয়ের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। এখনো মেয়েরা সেই জায়গায় যাওয়ার আগেই ঝড়ে যাচ্ছে। সেটা না হলে হয়তো পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
‘হয়তো এতে করে খুব দ্রুত সমাধান আসবে না, কিন্তু একটা পথতো তৈরি হবে।’
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে আইসল্যান্ড। এরপরে রয়েছে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রুয়ান্ডা ও সুইডেন। আর সবচেয়ে শেষের দিকে রয়েছে ইয়েমেন।
অর্থনীতিতে সুযোগ ও অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে রিপোর্টটিতে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তিন নম্বরে। আর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে অবস্থান ৭ নম্বরে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতা, সিনিয়র কর্মকর্তা ও ম্যানেজার পদে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ।








