প্রথমদিন শেষে তামিম ইকবাল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আরও দুদিন উইকেট থেকে সহায়তা পাবেন ব্যাটসম্যানরা। পরে উইকেট পরিণত হবে বোলারদের চারণভূমিতে। সেই চারণভূমিতে বাংলাদেশের বোলাররা নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের তাড়িয়ে বেড়াতে পারবেন? ততদূর হাঁটতে হবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন! তার আগে অনুকূলে থাকা উইকেটেই যে একটা দিন পার করে দিলেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। তৃতীয় দিনেও অবস্থা পাল্টাবে কিনা সংশয়! বোলারদের চারণভূমি হয়ে ওঠার সময়টাতে তাই উইকেটে পরীক্ষা দিতে হতে পারে টাইগার ব্যাটসম্যানদেরই!
বাংলাদেশ-২৩৪/১০ (৫৯.২), নিউজিল্যান্ড-৪৫১/৪ (দ্বিতীয় দিন শেষে)
হ্যামিল্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের লিড ঠেকেছে ২১৭ রানে। উইকেটে খুঁটি গেড়ে বসে গেছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। নিজের বিশতম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে অপরাজিত ৯৩ রানে। ফর্মে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলসও কম যাননি। অ্যাঙ্গেল বুঝতে ভুল করে মেহেদী মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করে গেছেন ৫৩ রান।
দ্বিতীয় দিন শেষে যা অবস্থা তা তৃতীয় দিনেও পাল্টানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উইলিয়ামসন টিকে গেছেনই, ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় বিজে ওয়েটলিং-কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের মতো ব্যাটসম্যানরা। অলআউট না হলে স্বাগতিকরা পরে উইকেটের সুবিধা পুরোপুরি নিতে চাইবে সেটা বুঝতে বিশারদ হওয়ার প্রয়োজন নেই!
অবশ্য বাংলাদেশের সর্বনাশ যা হওয়ার সেটা জিত রাভাল-টম ল্যাথামের ২৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই হয়ে গেছে। বাকি কিউই ব্যাটসম্যানরা সেই ভিত ক্রমেই শক্ত করছেন। দুই ওপেনারই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। সাদা পোশাকে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া জিত রাভালকে ১৩২ রানে থামিয়েছেন মাত্র এক ওভার বল করা টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
আর সবশেষ চার ইনিংসে তিনবার দেড়শো পেরনো ইনিংস খেলা ল্যাথামকে ১৬১ রানে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচ বানিয়ে শূন্য রানে জীবন দেয়ার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন সৌম্য সরকার।
হ্যামিল্টন টেস্টে খেলা তিন টাইগার পেসার- আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ উইকেটের জন্য মাথা ঠুকে মরেছেন। এই তিনজনকে টপকে চমক দেখিয়েছেন ‘পার্টটাইমার’ সৌম্য। ল্যাথামের উইকেট ছাড়াও রস টেলরকে ৪ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন খণ্ডকালীন মিডিয়াম পেসার।
অবাক করেছেন মাহমুদউল্লাহও। এক ওভার বল করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গার পর দ্বিতীয়বার বলই হাতে নেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। স্পিনে সবেধন নীলমণি হয়ে থাকা মিরাজকে বেধড়ক মার খেতে দেখেই হয়তো আবারও বল নেয়ার পথে এগোননি তিনি। ৩১ ওভার বল করে নিকোলসের উইকেট পেয়েছেন মিরাজ, তবে ১৪৯ রান দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে খরুচে বোলারটির নামও মিরাজই।
মাঝখানে একবার মুমিনুল হককে দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এক ওভারে ১১ রান দেয়ার পর আর মুমিনুল মুখো হননি অধিনায়ক।
তৃতীয় দিনের শেষে কিংবা চতুর্থ দিনের শুরুর ভাগে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নামার সম্ভাবনা প্রবল। ততক্ষণে ফাটলও ধরা শুরু করবে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে। ট্রেন্ট বোল্ট-টিম সাউদির মতো সুইং নির্ভর বোলাররা সর্বোচ্চ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবেন, সেই উইকেট থেকে স্বাগতিক স্পিনাররা তো সুবিধা নিতে মুখিয়ে আছেনই! সহায়ক উইকেট থেকেই সুবিধা আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, প্রতিকূল অবস্থায় কী করেন সেটাই এখন দেখার!










