যৌন হয়রানির দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত,ধর্ষণ মামলার আসামী বৃটিশ এমপি সায়মন ড্যানজুক বাংলাদেশের উপর ‘অবরোধ’ আরোপের আহ্বান জানানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ।
ব্যাপক দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে ব্রিটেনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করায় খোদ ব্রিটিশ গণমাধ্যমেই তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বানকে তারেকের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বিএনপি’র কাউন্সিলে যোগ দিতে ঢাকায় আসা ব্রিটিশ এমপি’র বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দেশী মিডিয়ার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। তবে বিতর্কিত ওই ব্রিটিশ এমপি’র ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের ভিডিওচিত্রের সূত্র ধরে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ান প্রতিনিধিকে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, বিএনপি এবং সহযোগী মৌলবাদীদেও সঙ্গে হাত মেলানো এই ব্রিটিশ এমপি’র সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
বিএনপির সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় সায়মন ড্যানজাক বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে গেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুমের মাধ্যমে এই সরকার আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছে।
ওই বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান সম্পূর্ণ সুস্থ এবং পূর্ণ উদ্যম নিয়েই আছেন। তার সঙ্গে কিছুদিন আগেই আমি দেখা করেছি। তিনি যত শিগগিরই সম্ভব দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই’।
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের সহ-সভাপতি সায়মন ড্যানজাক। গত বছর ডিসেম্বরে ড্যানজাককে লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৭ বছরের তরুণীকে যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠানোর খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এখন ধর্ষণের একটি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। এছাড়াও গত শুক্রবারই (১৮ মার্চ) ভুয়া খরচ দেখিয়ে ১১ হাজার পাউন্ড উত্তোলন করায় তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ড কর্তৃপক্ষ। ড্যানজাকও এক বিবৃতিতে তা ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন।
বক্তব্যের বিষয়ে গার্ডিয়ান প্রতিনিধি এমপি সায়মন ড্যানজাকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সাথে দেখা করার মধ্যে দোষের কিছু নেই। কেননা ব্রিটিশ সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছে’।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পর্কে সায়মন বলেন, এটি মোটেও হস্তক্ষেপ নয়। বাংলাদেশে যা ঘটছে তার জন্য বৃটিশ সরকারের উচিৎ বাংলাদেশের উপর অবরোধ আরোপ করা- এই কথাই আমি বলেছি। বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র ওঠে এসেছে। বৃটিশ সরকারের উচিৎ বাংলাদেশকে এই ব্যাপারে চাপ দেওয়া’।
গত বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতার পরও ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেনি। নিয়মিত দেশটির মন্ত্রীরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। বছরে ১ শ ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে আছে ব্রিটেন।
ব্রিটিশ এমপি’র বক্তব্য ও বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সেদেশের সরকারের বক্তব্য জানতে চায় গার্ডিয়ান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ব্রিটেন চায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করুক। বাংলাদেশ বৃটেনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং সবসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে আগ্রহী’।
তবে এই ‘অংশীদারিত্ব’ বিষয়েও সায়মন ড্যানজাকের আপত্তি আছে। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে ব্রিটেনের আর্থিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই এমপি।








