প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্জনগুলো ধরে রাখতে সকলকে সচষ্টে হতে হবে। এদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে । ১৯৪৭ সাল থেকে এই দেশকে নিয়ে পাকিস্তান ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে যা এখনও শেষ হয়নি ।’ ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি নেওয়ার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তান ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও একই সুরে কথা বলছেন।
একুশের বীর শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন ,সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের নাম হয়তো হারিয়ে গেছে, কিন্তু তারা নানাভাবে সমাজে প্রতিনিয়ত অবদান রেখেছেন বা রাখছেন। এসব মানুষের নাম দিলে সরকার তাদের সম্মান জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখনকার শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে ইউনেসকোর কাছে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতির আবেদন জানানো হয় । পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের জাতিসংঘের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
তিনি আরো জানান, ‘জাতিসংঘের তৎতকালীন মহাসচিব কফি আনান ঢাকায় আসলে তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের হারিয়ে যাওয়া ভাষা নিয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গঠন করা হয় । কিন্তু বিএনপি এসে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয় । আমাদের এসব অর্জনকে ধরে রাখতে হবে ।’
গুণীজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের আগামী প্রজন্ম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা কারো কাছে মাথানত করবো না । একুশ মানে মাথানত না করা।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন এবং এ ধারা আজো আমি অব্যাহত রেখেছি । আমাদের কোন অর্জন সহজ ছিলো না । সব গুলো অর্জনের পিছনে রয়েছে গৌরবের ইতিহাস, সংগ্রাম । আমাদের এই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না । আগামী প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিলেন ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হননি। এটার সংখ্যা নাকি ঠিক না। এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে । আমি জানি না পাকিস্তানের এই অপপ্রচার এবং তারই এই বক্তব্যের কোনও যোগসূত্র আছে কিনা। মনে হচ্ছে তারা যেন একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এটা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা এবং শহীদদের প্রতি অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কত বড় গণহত্যা হয়েছিল তার চিহ্ন আছে সারাদেশে। বাংলাদেশে এমন কোনও পরিবার নেই, যে পরিবারে কেউ জীবন দেন নাই। গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। এটা সবার জানা। কাজেই সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা বাঙালি জাতির প্রতি চরম অবমাননা।’








