কলম্বো, শ্রীলংকা থেকে: বিদেশের মাটিতে জয় দিয়ে শততম টেস্ট খেলার উপলক্ষকে অবিস্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ। জয় বাংলা কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে হোস্ট শ্রীলংকাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে টিম-টাইগার্স।
১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের ৮২ রানে বাংলাদেশ পেয়েছে সবমিলিয়ে নবম এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়।
হেরাথের ডেলিভারি মেহেদি হাসান মিরাজ সুইপ করতেই স্তব্ধ পি.সারার গ্যালারি। তবে কলম্বোর মাঠটি ততক্ষণে লাল সবুজের সমর্থকদের আনন্দে উচ্ছ্বসিত। দিনের খেলা ১৬ দশমিক এক ওভার হাতে রেখেই জয়।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। আগের তিন ইনিংসে ফিফটি পাওয়া সৌম্য উইকেট বিলিয়েছেন অকারণে। হেরাথের পরের ডেলিভারিতে ইমরুল শূন্য রানে ফিরতেই বাংলাদেশ শিবিরে জাগে আশংকার মেঘ।
সেইে মেঘ কেটে টাইগারদের ইনিংস উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত তামিম-সাব্বিরের তৃতীয় উইকেটে ১০৯ রানের পার্টনারশিপে। শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতার সাথে ব্যাট চালিয়েছেন তামিম। ৮৭ বলে ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ-সেঞ্চুরি। এরপর নিজের আসল খেলায় লংকান বোলারদের হতাশায় ডুবিয়েছেন টেস্ট দলের ভাইস-ক্যাপ্টেন। পেরেইরার বলে আউট হওয়ার আগে সাত বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ৮২।
সাব্বিরের ব্যাটেও কমতি ছিলো না আত্মবিশ্বাসের। ৪১ রানে তার বিদায়ের পর ম্যাচের নায়ক সাকিব ও দলের অধিনায়ক মুশফিকই বাকি কাজটা সারতে পারতেন। ১৫ রানে সাকিবের বিদায়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। শেষদিকে মোসাদ্দেকের বিদায়েও একটু টেনশন জমেছিলো। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২২ রানে সেই টেনশন থেকে মুক্তি।
এর আগে ৮ উইকেটে ২৬৮ নিয়ে খেলতে নামা শ্রীলংকার দ্বিতীয় ইনিংস ৫১ রান যোগ করে শেষ হয় ৩১৯ রানে। সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আগের দিনের তিনের সঙ্গে আরো একটি যোগ করে ৭৪ রানে নেন চার উইকেট। বাংলাদেশের জয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় এভাবেই।
অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়লো নিজেদের শততম টেস্ট জেতার কৃতিত্ব। ৩৮ বছর পর আবারো নিজেদের শততম টেস্টে জয় পেলো কোনো দেশ।
রিপোর্টটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন:







