নিজেদের একদিনের শততম জয়ের ম্যাচে হারের বৃত্তে বন্দী থাকলো বাংলাদেশ।
লো স্কোরিং ম্যাচে টাইগারদের দুই উইকেটে হারিয়েছে আফগানরা। টসে হেরে ব্যাট
করতে নেমে মোসাদ্দেকের লড়াকু ৪৫ রানের সুবাদে ২০৮ রান করে অল আউট হয়
টাইগারা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মূলত আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ও আসগর স্তানিকজাইয়ের ১০৭ রানের জুটির কল্যাণেই জয় পায় তারা। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ এ সমতা আনলো আফগানিস্তান।
শেষ ছয় ওভারে আফগানদের দরকার ছিলো ২৩ রান আর টাইগারদের প্রয়োজন ছিলো চারটি উইকেটের। এই অবস্থায় ম্যাচের ৪৫তম ওভারে সাকিব নিজের শেষ ওভারে বল করতে এসে এলবিডব্লিউয়ের শিকার বানিয়ে সাজঘরে ফেরান রাশীদ খানকে। ৪৮তম ওভারে বল করতে এস মাত্র দুই রান দেন তাইজুল ইসলাম। ফলে আফগানদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২ বলে ১১ রান। তবে শেষদিকে নাজিবুল্লাহ জর্দানের ২২ রানে জয় পায় আফগানিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন স্তানিকজাই। এছাড়াও মোহাম্মদ নবী করেন ৪৯ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে চারটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।
২০৮ রানের পুঁজি নিয়ে শুরুটা দারুণ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভার মাশরাফি বোলিং করার পর দ্বিতীয় ওভারেই সাকিবকে আক্রমণে আনেন টাইগার দলনায়ক। প্রথম তিন ওভার আফগানিস্তান নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেয়ার পর চতুর্থ ওভারেই ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা।
দলীয় ১৪ রানের মাথায় অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাতে আফগানিস্তানের টুঁটি চেপে ধরে টাইগাররা। সাকিবের করা চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে এক্সট্রা কভারে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন নওরোজ মঙ্গল। পরের বলে ঠিক মতো পড়তে না পেরে দিকভ্রান্ত হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রহমত শাহ।
তবে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে ওঠে আফগান শিবির।তৃতীয় উইকেটে হাসমতউল্লাহ ও শাহজাদ মিলে ৪৬ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে।
আফগান প্রতিরোধ দেখে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন মাশরাফি; ডেকে আনেন অভিষিক্ত মোসাদ্দেককে। আক্রমণে এনে নিজের প্রথম বলেই হাসমতউল্লাহকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন এই তরুণ উদীয়মান অলরাউন্ডার। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ক্যারিয়ারের প্রথম বলে উইকেট নেয়া ২৪ তম বোলার মোসাদ্দেক।
ইনিংসের ১৬তম ওভারে আক্রমণে এসেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শাহজাদকে আউট করেন সাকিব।
কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসগর স্তানিকজাই ও মোহাম্মদ নবী অসাধারণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটি হাতছাড়া করে নিতে থাকেন। ১০৭ রানের জুটি গড়েন এই দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। এক রানের জন্য নবী হাফ সেঞ্চুরি মিস হলেও স্তানিকজাই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। ৯৫ বলে চারটি চার আর দুটি ছয়ে করেন ৫৭ রান।
হাত থেকে ম্যাচ বেড়িয়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে দলনেতা মাশরাফি নিজেই বল হাতে তুলে নেন। ৪০তম ওভারের প্রথম বলেই বিপদজনক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবীকে ৪৯ রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন আর পরের ওভারে স্তানিকজাইকে সাব্বিরের কাছে তালুবন্দী করেন অভিষিক্ত মোসাদ্দেক সৈকত।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ৪৯.২ ওভারে ২০৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। মূলত অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেনের দৃঢ়তায় ২০০ রানের কোটা পার করে টাইগাররা।
প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক ৪৫ রানের ঝলমলে হার না মানা ইনিংস খেলেন। তার ৪৫ বলের ইনিংসে ৪টি চারের সঙ্গে ২টি দর্শনীয় ছক্কার মার ছিল। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন।
অাফগান বোলারদের মধ্যে লেগ স্পিনার রাশীদ খান তিনটি উইকেট নেন। এছাড়াও মোহাম্মদ নবী ও মিরওয়াইশ আশরাফ দু’টি করে উইকেট নেন।
পহেলা অক্টোবর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।







