ওপরে সুনীল। নীচে রক্তাভা কৃষ্ণচূড়া। আকাশ মাটির মাঝামাঝি বাঁধনহারা ওয়ানটেক আনন্দের দিন। একদিকে একটেকে বিভিন্ন কড়ামিঠা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অন্যদিকে সপ্তমবর্ষিয়া সায়রার সুইমিংপুলে অবাধ সাঁতার। সিঙ্গেল মম এর জীবনে সন্তানের আনন্দ স্পর্শ করবেনাতো আর কি করবে।
‘চার মাস ধরে কোন কাজ করছিনা। স্রেফ পরিবারকে সময় দিচ্ছি। ওয়ানটেক কোয়েশ্চেন এন্ড আনসার’-এর একটি পর্ব আগে দেখা ছিল। আমি নিজেকে চ্যানেল আই পরিবারের মনে করি। অপু ভাই (অপু মাহফুজ) যখন আমাকে ফোন দিলেন এবং ওয়ানটেক এর অতিথি হওয়ার কথা বললেন আমি বিন্দুমাত্র দেরী করিনি রাজী হতে। কারণ ভিন্নতার দিকে আমার আজন্ম আকর্ষণ। আর অনুষ্ঠানটির অভিজ্ঞতাও এত স্মুথ যা বলার বাইরে। আশা করি পর্বটি সবাই দেখবেন।’ অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলছিলেন তার ‘ওয়ানটেক কোয়েশ্চেন এন্ড আনসার’-এর অভিজ্ঞতা।
এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবার স্থান দ্য ওয়ে। রাজধানীর গুলশানের ডিপ্লোমেটিক জোনের অনন্য অভিজ্ঞতার বুটিক হোটেল। আকাশের কাছে বুফে আর তারও একটু ওপরে দৃষ্টিনন্দন সাঁতারপুল নান্দনিক বোধ তৈরী করে মনে। পাশাপাশি কোমল ভঙ্গিতে কঠোর নিরাপত্তা বিধানের প্রয়াস অসাধারণ। ফলে স্বাধীন হোটেল ব্যবসায় চেইনের বাইরে থেকেও বিশ্বের ১১ তম লাক্সারি হোটেলসহ ২০১৭ সালে ৩টি পুরস্কার প্রাপ্তি অস্বাভাবিক ঠেকেনা। যারা রিসেপশনে ছিলেন তাদের নামেও সৌজন্যতার দারুণ ছাপ। যেমন একজনের নাম সুমন তো অন্যজনের সেবা। ওয়ানটেক পর্ব শেষে তারা সবাই তারকা বাঁধনের সঙ্গে ছবি তোলেন দল বেঁধে। তারা এবং সাধারণের স্বতঃপ্রবৃত্ত বন্ধনের স্বাভাবিকতাই আবার প্রকাশ পায়।

অনেক আচমকা প্রশ্ন থাকে এই শোতে? বিব্রত কিছু মুহূর্ত বা কঠিণ কিছু প্রশ্নও এসে পড়তে পারে…এমন আশংকা বোধ কাজ করেনি?’ ‘জীবনে এমন সব প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি বিশেষ করে সংসার জীবনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাতে আর কোন প্রশ্নকে ভয়ংকর মনে হয়না।’ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন বাঁধন।
ভাবনার ভিন্নতা থাকলে যে কোন ভাবনাকে সাদরে নেবে দর্শক তার জাজ্বল্যমান প্রমাণ চ্যানেল আই ডিজিটাল কনটেন্ট প্রয়াস ‘ওয়ানটেক কোয়েশ্চেন/আনসার’। প্রয়াসটি যে একদম মৌলিক তা যেমন নয় তেমনি হুবহু অনুকরণ নয়। ভোগ-এর সেভেন্টি থ্রি কোয়েশ্চেনস-এ অনুপ্রাণিত হয়ে এর ধরনকে দেশীয় ছাঁচে ফেলে তৈরী চ্যানেল আই ওয়ান টেক কিউ/এ’। এখানে প্রশ্ন থাকে কোন টা ভালো লাগে বা কোনটা মন্দ সে বিষয়ে। তেমনি সাম্প্রতিক সময়ের কাজকর্ম, তারকা জীবনের নানা গসিপ নিয়েও থাকে প্রশ্ন। এক টেকের প্রশ্নে নেই এড়িয়ে যাওয়ার উপায়। উত্তর দিতে হয় অবধারিতভাবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই মজাদার সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া। মূলত সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবের দর্শকদের লক্ষ্য করে নির্মিত অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সাড়া তুলেছে। ৩০ জুন অনুষ্ঠানটির নবম পর্ব প্রচার হবে। অনুষ্ঠানটির চমক এবং সাবলীলতা সোশাল মিডিয়ায় তথা ইউটিউব দুনিয়ায় ভিন্ন স্বাদের আমেজ নিয়ে এসেছে। শুরু হয়েছিল রাবাকে দিয়ে। তারপর এ অনুষ্ঠানের অতিথি হয়েছেন আঁখি আলমগীর, কণা, কোনাল, শবনম ফারিয়া, নুসরাত ফারিয়া। এর একমাত্র পুরুষ অতিথি মিশু সাব্বির। পুরুষের সংখ্যা কম কেন প্রশ্নে অনুষ্ঠানটির কন্টেন্ট প্রডিউসার এবং উপস্থাপক শাফি আহমেদ বলেন, বাড়বে ভাই বাড়বে। আর নারী তারকার কদর সবসময় ই বেশি। বাস্তবতা।
অনুষ্ঠানটি সুনিপূণ উপস্থাপনায় তুলে ধরা কেবল কণ্ঠ দিয়ে অথচ নিজেকে না দেখানো সমসাময়িক উপস্থাপনায় পরিচিত মুখ শাফি আহমেদ বলেন, এটি আমাদের প্রোগ্রাম ডিজাইনের একটি অংশ। এখানে মুখ্য তারকা। উপস্থাপক নয়। বরং উপস্থাপককে না দেখার রহস্য প্রোগ্রামটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।’ নিজেকে কি কখনো দেখাবেন না? এ অনুষ্ঠানে প্রশ্নে রহস্যের হাসি হেসে বলেন, চলুক না এভাবে। কোন একদিন প্রকাশিত হব। প্রশ্নগুলো কি আগে থেকে ঠিক করা এমন প্রশ্নে শাফি বলেন, ‘একটা আউটলাইন নিয়ে টেক এ যাই আমরা। অন দ্য স্পট এ বেশিরভাগই ইম্প্রোভাইজ প্রশ্ন থ্রো করা হয়।’ লাস্ট চারটি পর্ব নিজে সম্পাদনাও করেছেন বলে জানান শাফি। কেবল কি বিনোদন তারকারা এর অংশ হয়ে থাকবেন নাকি..প্রশ্ন শেষ না করতে দিয়ে শাফি বলেন, সব ক্ষেত্রের তারকাদের অংশগ্রহণ থাকবে আমাদের এ অনুষ্ঠানে।








