শুরুটা হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৩ সালে, ইয়াদো কি বারাত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। শিশুর তকমা ফেলে নায়ক হিসেবে তাঁর আবির্ভাব ঘটে ১৯৮৮ সালে, সুপারহিট ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এরপর আর সাফল্যের শিখরে ওঠা থেকে কেউ আটকাতে পারেনি বলিউডের অভিনেতা আমির খানকে।
সেই সময়ে একে একে তাঁকে দেখা গেছে দিল, ইশক, গুলাম, জো জিতা ওয়াহি সিকান্দার, পেহলা নাশা, রাজা হিন্দুস্তানির মতো জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে।
১৯৯৯ সালে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করা পর যেন পাওয়া যায় এক নতুন আমিরকে। জীবনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়ায় ‘লগন’ চলচ্চিত্রটি। ২০০১ এ মুক্তি পাওয়া ‘লগন’ সে বছর অস্কারে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে মনোনয়ন পায়। এরপর থেকেই সমকালিন হাওয়ায় গা না ভাসিয়ে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। যে পথ শুধু বলিউডি মশল্লাদ্বার সিনেমায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং মানুষকে তার অভিনয়, চরিত্র, সিনেমার গল্প ভাবতে সুযোগ করে দিল।
চার বছরের দীর্ঘবিরতির পর তাই ২০০৬ সালে তাকে পাওয়া যায় ‘ফানা’ ও ‘রং দে বাসন্তী’র মতো অসাধারণ সিনেমায়। দুটি চলচ্চিত্রই দর্শককে আবারও মনে করিয়ে দেয় সবার চেয়ে কেন আলাদা আমির! ভিন্ন ধরনের গল্প, আর গ্ল্যামার বা চাকচিক্যের আধিক্য ছাড়াই দর্শক মন জয় করে নেন আমির।
আমিরের বহুমুখী গুণের নতুন সন্ধান দর্শক পান ২০০৭ সালে। এবার তিনি এলেন পরিচালক হিসেবে। শিশুদের নিয়ে তৈরি করলেন ‘তারে জামিন পার’। প্রতিটি শিশুই যে আলাদা, প্রত্যেকের বিশেষত্ব আছে, এই বার্তা পৌঁছে দিলেন সবার কাছে।
প্রতি বছর নতুন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন আমির। হঠাৎ ‘সিক্স প্যাক’ বানিয়ে, মাথার চুলের অদ্ভুত ধরনসহ ‘গজনি’ চলচ্চিত্রে আমিরের অনবদ্য অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ২০০৯ সালে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় তাঁকে পাওয়া যায় ২০ বছরের যুবকের চরিত্রে। হ্যাঁ, সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কথায় বলা হচ্ছে।
আবার কিছুদিনের বিরতি নিয়ে ২০১৩ সালে মশল্লাদ্বার ‘ধুম ৩’! অতঃপর ২০১৪ তে অনবদ্য ‘পিকে’। ২০১৬ তে কুস্তিগিরের জীবনকাহিনী নিয়ে ‘দঙ্গল’। প্রতিবার আমিরকে পাওয়া গেছে নতুন ধরনের চরিত্রে, প্রতিটি চরিত্রের সাথে তিনি মিশে গেছেন অনায়াসে। আর বক্স অফিসে প্রতিটি চলচ্চিত্রই পেয়েছে সুপারহিট বা ব্লকবাস্টার হিটের তকমা। সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ১৪ বছরের এক কিশোরীর গল্প নিয়ে ২০১৭ সালে তিনি আবারও প্রেক্ষাগৃহ মাতিয়েছেন ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ দিয়ে।
আমির সবার থেকে আলাদা তাঁর চরিত্রগুলোর বিভিন্নতায়। ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলে পরিচিত আমির নিজের কাজের কাজের ব্যাপারে অসম্ভব খুঁতখুঁতে। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে সাজিয়ে নেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। কখনও চুল ফেলে দিচ্ছেন, কখনও ৯০ কেজির মোটা লোক হয়ে যাচ্ছেন। রীতিমত ঝুঁকি নিয়ে নিয়েই করছেন একেকটি চরিত্র। কিন্তু, ব্যর্থতা তাঁর দরজায় একবারও কড়া নাড়েনি। প্রতিবারই পাশ করে গেছেন একেকটি কঠিন চরিত্রের পরীক্ষায়।
অভিনয়ের জন্য ২০০৩ এ ‘পদ্মশ্রী’ ও ২০১০ এ ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন। শুধু অভিনয় নয়, আমিরের দক্ষতা আছে উপস্থাপনায়ও। সামাজিক ও মানবতাধর্মী কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সবসময়। সমাজের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ‘সত্যমেভ জয়তে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে এনেছেন প্রাসঙ্গিক নানা বিষয় আর সমাজের নানা সমস্যা।
১৯৬৫ সালের ১৪ মার্চ জন্ম নেয়া আমির পূর্ণ করলেন ৫৩ বছর। তাঁর বিভিন্ন ‘এক্সপেরিমেন্ট’ চলতেই থাকবে এমনটাই আশা বলিউডপ্রেমী সব দর্শকদের।









