আধুনিক ব্ল্যাক হোল তত্ত্বের অন্যতম জনক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কেমন ছিলেন? অথবা বাবা হিসেবেই বা কেমন?
মোটর নিউরোন রোগটি ধরা পড়ার বেশ কিছুদিন আগে ১৯৬২ সালে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে হকিংয়ের সঙ্গে জেন উইলডের দেখা হয়। ১৯৬৫ সালের ১৪ জুলাই স্টিফেন ও জেনের বিয়ে হয়। জেনের ভালোবাসা ছিল স্টিফেনের অসুস্থতাকে ঘিরে। পরে স্টিফেন এবং জেন দম্পত্তির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান।
তারা হচ্ছেন- রবার্ট, লুসি, টিমথি। কিন্তু জেন ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী হওয়ায় স্টিফেনের সাথে তার খাপ খাওয়াতে সময় লেগেছিল। তারপরও দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন স্টিফেনের সেবিকা।
পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসতে থাকলে স্টিফেন হকিংসকে সার্বক্ষণিক দেখ ভাল করার জন্য নার্স নিয়োগ করা হয়। ডেভিড মেসনের স্ত্রী এলিনা ডেভিসকে দেখ ভাল করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে স্টিফেন হকিংস এর বিদেশ যাওয়ার সফর সঙ্গী হয় এলিনা ডেভিস। আর জেনের তিন সন্তানকে সময় দিতে গিয়ে দূরত্ব তৈরি হয় স্টিফেন হকিংসের সাথে।

১৯৯৫ সালে জেনের সাথে হকিংয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সেই বছরই সেপ্টেম্বরে হকিং তার নার্স মেসনকে বিয়ে করেন। দশ বছর সংসারের পর ২০০৬ সালে এলিনার সাথে ছাড়াছাড়ি হলে স্টিফেনের সাথে প্রথম স্ত্রী জেনের সম্পর্ক ভালো হতে থাকে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিফেনের ছোট ছেলে টিম বলেন,পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বাবার কথা কিছুই বুঝতাম না। আমার বাবা তার নিজেস্ব ভঙিতে কথা বলতেন। আমার পক্ষে বাবার আধো আধো কথা বোঝা খুব কঠিন ছিল। তবে বাবার সাথে জোড়া লাগানো কথা বলার যে বক্স রয়েছে সেটা কখনোই আমার কাছে বাধা হিসেবে ছিল না। বরং বক্সটি আমাদের মধ্যে একটা ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করেছিল।
বাবা ভয়েস সিনথেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলতেন। আমি যখন এটা বুঝতে পারলাম তখন বাবার সাথে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পেরেছিলাম। তবে এটা আমাদের পরিবারের জন্য মর্মস্পশী বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা শুরু থেকেই বাবার সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছিলাম।
একদিন বাবার কাছে একটা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম, ‘আমাদের চারপাশে যদি অনেকগুলি ছোট ছোট বিশ্ব থাকে তাহলে কেমন হবে? প্রশ্নটা করেই ভীষণ লজ্জাও পেয়েছিলাম আমি।
বাবা আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। আর আমাকে বলেছেন এমন আইডিয়া আর অনুমান মাথায় আসলে যেনো বলতে ভয় না পাই।
বাবা সব সময় বলতেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তুমি যে কাজটি করছ তা আত্মবিশ্বাসের সাথে কর। এবং নিজের আস্থা নিজেই অর্জন করে কাজটি অনুসরণ কর’।আমার বাবা একজন প্রতিযোগীমূলক ব্যক্তি ছিল। সময় পেলেই দাবা খেলতে বসে যেতাম বাবার সাথে । দাবা খেলায় বাবা ছিল বেশ পটু।
‘দ্যা থিউরি অব এভরিথিং’ মুভিটি বাবার বায়োপিক নিয়ে করা। এডি রেডমেনি এই মুভিতে অভিনয় করার জন্য অস্কারও পেয়েছেন।
মুভিটি দেখে খুব আবেগী হয়ে পড়েছিলাম আমি। আমরা সব সময় মনে করি আমাদের বাবা একজন শারীরিক সক্ষম একজন মানুষ।
ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ বুধবার সকালে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন। হকিং এর তিন সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম বলেন, ‘ তিনি একজন বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, যাঁর কাজ বহু বছর বেঁচে থাকবে’।
মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্যের তাত্ত্বিক ব্যাখায় কৃষ্ণবিবর ও বিকিরণতত্ত্বের ব্যাখা দিয়ে স্টিফেন হকিং বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর স্থান দখল করে আছেন








