নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছি। যিনি ১৯৭১ সালে ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা মো: নজরুল ইসলামের সাথে এই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী আকতারা বেগমও নিহত হন।
নিহত মো: নজরুল ইসলামের ভাই মো: শফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমার ভাই ও ভাবী ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আমার ভাই নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে ৭ নম্বর সেক্টরে কর্নেল নূরুজ্জামানের আন্ডারে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন তিনি ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্ম নেয়া নিহত নজরুল ইসলাম সর্বশেষ ডিবিবিএল’র সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার হিসেবে অবসরে যান। আর তার স্ত্রী আকতারা বেগম রাজশাহী সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষিকা থেকে অবসরে নেন। রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করা এই দম্পতির দুই মেয়ে কাঁকন ও কনক। কাঁকন ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছেন। আর কনক উত্তরা উইমেনস মেডিকেল কলেজে পড়ছেন।
ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথার স্মৃতিচারণ করে মো:শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়ের সাথে আমার শেষ কথা হয় ওইদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ১১ টা ১৩ মিনিটে। ভাইয়া জানান যে, ভাবিকে নিয়ে সে নেপাল যাচ্ছেন। আমি তাকে বলি, আচ্ছা ঘুরে আসেন। সাবধানে থাকবেন।’
গত সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালী এবং ১ জন চীনা নাগরিক।








