বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে বেরিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বন্যা কবলিত এলাকা দেখতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যের কোলে চেপে একটি ছোট নালা পার হন তিনি।
সোমবার প্রদেশের পান্না জেলার আমানগঞ্জ তহশীল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। পথে পড়া নালায় ছিল গোড়ালি-পানি। তারপরও দুই পুলিশ সদস্যের কোলে চড়ে নালা পার হন তিনি। এরপর আরেক এলাকায় কাদার মাঝে খালি পায়ে হেঁটে যান মন্ত্রী। তার জুতোজোড়া হাতে নিয়ে পেছন পেছন হেঁটে যেতে দেখা যায় তার এক সহকারীকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের মোবাইল ফোনে তোলা ছবিগুলো দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের কাজে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী দলগুলো।
রাজ্য কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অরুণ যাদব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে হেঁটে এতটুকু পানি পার হতে পারছেন না, পুলিশের কোলে চেপে পেরোতে হচ্ছে, এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।
অবশ্য সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রীকে যে কোনো আঘাত এবং সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে তাকে কোলে করে পানি পার করানো হয়েছিল।
প্রবল বৃষ্টিতে মধ্যপ্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশকিছু জায়গায় পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে ত্রাণশিবির। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, নেতা-মন্ত্রীদের আগমনে উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটছে। উদ্ধারকাজের জন্য ব্যবহৃত সরকারি হেলিকপ্টারগুলো ভিআইপিদের এলাকা পরিদর্শনে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
গত সপ্তাহেও ভারতের উড়িষ্যার এক মন্ত্রীর এক আচরণে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিজু জনতা দলের ক্ষুদ্র, স্বল্প ও মাঝারি উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী যোগেন্দ্র বেহাড়া স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন শেষে জুতোর বেল্ট বাঁধিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন ভিআইপি’।
একদিন পরই অবশ্য মন্ত্রী নিজের উত্তর থেকে সরে দাঁড়ান। বলেন, বাম পায়ে ব্যথা থাকার কারণে তিনি নিচু হয়ে জুতো বাঁধতে পারছিলেন না। তাই তার ‘ছেলের মতো’ নিরাপত্তাকর্মী কাজটি করে দিয়েছিলেন।










