রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা সরব ছিলেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ছেয়ে গেছে সচেতন ব্যবহারকারীদের ফেসবুক ওয়াল। এভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা দেশ। সাধারণ মানুষের গত কয়েকদিনের অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ফলশ্রুতিতে এ মামলার আসামিদের সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাদেরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে শুক্রবার বিকেলে আসামি সাফাতকে ৬ দিন এবং সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগেও যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শাহবাগের গণজারণ, সিলেটের শিশু রাজন হত্যা ও কুমিল্লায় কলেজছাত্রী তনু হত্যাকাণ্ডসহ আরো অনেক ঘটনায় আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে সম্মিলিতভাবে জেগে উঠতে দেখেছি। জেগে ওঠা এই তারুণ্যকে কখনোই হারতে দেখা যায়নি। আর তারুণ্য জেগে উঠলে তাকে কখনো হারিয়ে দেয়া সম্ভব নয় বলেই আমরা বিশ্বাস করি। সকল প্রকার অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিপরীতে জেগে ওঠা এই সম্মিলিত শক্তি আমাদের আশার আলো দেখায়। তারুণ্যের এই শক্তিকে আমরা অভিনন্দন জানাই। সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই জাগরণকে আমরা এর গুণগত প্রভাবের ইতিবাচক দিক বলেই মনে করি। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগের ইতিবাচক এসব দিকের পাশাপাশি বনানীর ঘটনায় অভিযুক্তদের মতো ফেসবুকে একই মানসিকতার লোকজনও দেখা যায়। এদের অনেকে ফেসবুকে একইসঙ্গে ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে। এছাড়াও ফেসবুকে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও কম নয়। তবে এই অপরাধীদের সংখ্যা বেশি নয় বলেই আমরা মনে করি। তারপরও ইতিবাচক দিক থাকার পরও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক বিষয়গুলোর দিকেও নজর দেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম প্রকৃত অর্থেই ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানিসহ সকল ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরো সক্রিয় ও শক্তিশালী হোক, বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে আমরা এটাই আশা করছি।








