প্রায় একবছর পর আবার মঞ্চে আসছে প্রাচ্যনাটের ‘এ ম্যান ফর অল সিজনস’। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় নাট্যোৎসব ২০১৬’।
এ নাট্যোৎসবে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় মঞ্চায়িত হবে প্রাচ্যনাট এর ষষ্ঠ প্রযোজনা ‘এ ম্যান ফর অল সিজনস’।
নাটকটি ২০১৫ এর ২৬ অক্টোবর সর্বশেষ মঞ্চস্ত হয়েছিল। রবার্ট বোল্টের রচনা থেকে নাটকটি অনুবাদ করেছেন শাহেদ ইকবাল। নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।
‘এ ম্যান ফর অল সিজন্স’ নাটকটি প্রথম ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৬১ সালের ২২ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের ANTA থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয়।
নাটকটির ঐতিহাসিক পটভূমি ষোড়শ শতকের ইংল্যান্ড। মধ্যযুগের শেষ দিকে শুধু ইংল্যান্ড নয় সমগ্র ইউরোপে তখন পরিবর্তনের জোয়ার সূচিত হচ্ছিল। ফলশ্রুতিতে ধর্ম, রাজনীতি এবং অর্থনীতির মধ্যকার বিরোধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৫২০ এর দ্বিতীয় অর্ধ হতে ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরী এবং পোপের মধ্যে বিরোধের সূচনা ঘটে। যার অনিবার্য পরিণতি ‘দি ইংলিশ রিফর্মেশন’।
রাজা অষ্টম হেনরী সিংহাসনে আরোহনকালে তার ভাইয়ের বিধবা পত্নী স্পেনের রাজকন্যা ক্যাথরিনকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে খ্রীস্টিয় রাষ্ট্রের বন্ধুত্বের কথা চিন্তা করে পোপ আইনের সংশোধন করে এই বিয়েতে মত দেন।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই দুই দেশের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। ক্যাথরিন কোন পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে ব্যর্থ হন এবং রাজা অ্যান বুলেন নামক এক মহিলার প্রণয়াসক্ত হন।
তারপর রাজা তার বিয়ে অবৈধ দাবী করে পোপের কাছে বিচ্ছেদ অনুমোদন করার আবেদন করেন। পোপ তাতে অসম্মত হলে রাজা ‘এ্যাক্ট অব সুপ্রিমেসী’ বিল পাশ করে নিজেকেই ইংল্যান্ডের চার্চের প্রধান বলে অভিষিক্ত করেন ও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে অ্যান বুলেনকে বিয়ে করেন।
রোমের সবাই এ বিয়ে মেনে নিলেও তৎকালীন লর্ড চ্যান্সেলর স্যার টমাস মোর এ বিয়েতে সম্মতি দেননি। তিনি প্রতিবাদও করেননি। শুধুমাত্র তিনি নিজ পদ হতে ইস্তফা দেন।
এই নাটকের ঘটনাপ্রবাহ মূলতঃ তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত এবং সমাজ ও নিজের সাথে দ্বন্দ্ব পরিপ্রেক্ষিতে তার চিন্তাধারার সুস্পষ্টতাই নাটকের মূল উপজীব্য।







