গত বছর তিনেক ধরেই চলছে স্মার্টফোনের সময়। মানুষের হাতে হাতে এখন নামি-বেনামি কতশত মডেলের অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট। অ্যাপল আইফোন একটু বেশিই বিলাসবহুল হলেও তার সংখ্যাও কিন্তু কম নয়, বরং দিন দিন বাড়ছেই। আগের ‘আনস্মার্ট’ ফোনগুলো ছেড়ে প্রতিদিনই আরো বেশি মানুষ ঝুঁকছে স্মার্টফোনের দিকে।
ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশবিদেশের ব্র্যান্ডগুলো লঞ্চ করছে নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন। কিন্তু এ বছর এতো বেশি স্মার্টফোন বাজারে এসেছে যে এতোগুলো হ্যান্ডসেট থেকে সেরা ১০টিকে বাছাই করা ভীষণ কঠিন একটা কাজ।
তবুও এর মধ্য থেকেই স্মার্টফোন ভক্ত এবং সম্ভাব্য ক্রেতারা চলুন এ বছরের জনপ্রিয় স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সর্বাধিক আলোচিত সেরা ১০টি স্মার্টফোন সম্পর্কে জেনে আসি।
১০. আসুস জেনফোন সেলফি
ক্যামেরা আর সেলফিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত ফোন। আসুস জেনফোন সেলফি’র সামনে-পেছনের দু’টি ক্যামেরাই ১৩ মেগাপিক্সেলের। দু’টোর সঙ্গেই আছে ডুয়েল টোন এলইডি ফ্ল্যাশ। পেছনের ক্যামেরায় লেজার অটোফোকাসও রয়েছে। ইনডোর এবং কম আলোতেও অসাধারণ ছবি তুলতে সক্ষম এই স্মার্টফোনে সেলফি তুলে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।
৩ জিবি র্যাম, ৩২ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি ও কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ এসওসি গ্রাফিক প্রসেসরযুক্ত আসুস জেনফোন সেলফি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যেই পাবেন বাজারে।
৯. হুয়াই গুগল নেক্সাস ৬ পি
হুয়াইয়ের তৈরি গুগল নেক্সাস ৬ পি এমন একটি ডিভাইস যার স্টাইল এবং স্পেসিফিকেশন অন্যান্য নতুন স্মার্টফোনের জন্য আদর্শই বলা চলে। অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো এবং স্টক ইউজার ইন্টারফেসযুক্ত নেক্সাস ৬ পি সবদিক দিয়েই একটি প্রিমিয়াম মানের স্মার্টফোন। নজরকাড়া মেটাল বডি থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম রেজ্যুলেশনের স্ক্রিন, শক্তিশালী প্রসেসর – সব মিলিয়ে এ বছরের সেরা ফোনগুলোর একটি এই নেক্সাস ৬ পি।
শুধু তাই নয়, এতে রয়েছে পেছনে ১২.৩ এবং সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের চমৎকার দু’টি ক্যামেরা। আর সোনায় সোহাগা করতে ফোনটির রয়েছে ৪কে বা ২৪০এফপিএস গতিতে ৭২০পিক্সেল মানের ভিডিও ধারণের ক্ষমতা। স্মার্টফোনটির দাম পড়তে পারে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা।
৮. জিওনি ম্যারাথন এম৫
দুর্বল ব্যাটারি লাইফের বিরুদ্ধে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রের একটি হলো জিওনির নতুন এই স্মার্টফোনটি। এর ৬০২০এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি দিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টা মুভি দেখার ম্যারাথন চালাতে পারবেন আপনি। এজন্যই ফোনটির নাম ম্যারাথন এম৫! জিওনির ম্যারাথন সিরিজের সবগুলো ফোনই ব্যাটারি লাইফের দিক দিয়ে অন্যান্য বড় বড় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
৩ জিবি র্যাম, ৩২ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি, ১৩ ও ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ – এসব বিশেষ ফিচার থাকলেও শুধু ব্যাটারি দক্ষতার জন্যই ম্যারাথন এম৫ উঠে এসেছে বছরের সেরা স্মার্টফোনের তালিকায়। এর মূল্য পড়বে মোটামুটি ২৫ হাজার।
৭. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫
বাজারে স্টাইলাস পেনসহ যে কয়টা স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে এক কথাতেই সেরা বলা যায় স্যামসাংয়ের নোট ৫ ফোনটিকে। অ্যালুমিনিয়াম ও কাচের তৈরি বডি আর মনকাড়া ডিজাইনের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে এ বছরের সেরা স্মার্টফোন ক্যামেরাগুলোর একটি। ১৬ ও ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দু’টিতে শুধু মেগাপিক্সেলের হিসেব না ধরলেও ছবি ওঠে অসাধারণ মানের।
৪জিবি র্যামের নোট ৫-এর বিশেষ আকর্ষণই এর সুদৃশ্য স্টাইলাস। অতি সংবেদনশীল প্রেশার পয়েন্ট বিশিষ্ট স্টাইলাস পেনটি দিয়ে কাজ যেমন হয় দ্রুত, তেমনি সহজে। আঁকিবুকি আর ডিজাইনও করতে পারবেন মনের মতো করে। দেশের বাজারে ফোনটির দাম ৬৭ থেকে ৭০ হাজার টাকা।
৬. মোটো এক্স প্লে
চাকচিক্যওয়ালা বিশেষ কোনো ফিচার না থাকলেও প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্যযুক্ত নির্ভরযোগ্য একটি ফোন মোটো এক্স প্লে। মোটোরোলা সবসময়ই নির্ভরযোগ্য মানের ভালো স্মার্টফোন দিয়েই ক্রেতা ধরে রেখেছে। এই ফোনটি কিনলেও আপনি মজবুত বডি এবং ঠিক সময়ে সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন।
একই সঙ্গে গুগল নেক্সাস ধাঁচের ফোনটিতে থাকছে কার্যকর সফটওয়্যার এবং প্রসেসর পারফরম্যন্স, উন্নত ব্যাটারি লাইফ এবং ২১ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা (সামনে ৫ মেগাপিক্সেল)। বাংলাদেশের বাজারে এর দাম পড়তে পারে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার টাকা।
৫. শাওমি এমআই ৪
বছরের শুরুতেই উচ্চমানের হার্ডওয়্যার কিন্তু কমদামের কারণে আলোচনায় চলে আসে শাওমির এমআই৪ মডেলের ফোনটি। ২.৫ গিগাহার্জের শক্তিশালী প্রসেসরের পাশাপাশি এর রয়েছে ১০৮০X১৯২০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন। বাজারে এসেই প্রতিযোগিদের মাথা খারাপ করে দিয়েছিলো ফোনটি। তাই সমসাময়িক অন্যান্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলো অতীত হয়ে গেলেও শাওমি এমআই৪ এখনো আলোচনায় আসে সেরা ফোনের একটি হিসেবেই।
২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকা দাম পড়তে পারে ফোনটি। শিগগিরই অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ তে আপগ্রেড এবং দাম আরো কমানোর আশ্বাস দেয়ায় আরো কিছুটা সময় হ্যান্ডসেটটি আলোচনায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪. লেনোভো কে ৩ নোট
চীনা কম্পিউটার জায়ান্ট লেনোভো এ বছর অনেকগুলো মডেলের স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার পেয়েছে কে ৩ নোট মডেলটি। ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে এমন একটি ফোন পাওয়া সত্যিই দারুণ একটা ব্যাপার। লেনোভোর এই ফোনটির সমান স্পেসিফিকেশনের অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর দাম এর প্রায় দ্বিগুণ। যারা কম দামের মধ্যে চলতি সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়ে বেশি কিছু চান তাদের জন্য লেনোভো কে ৩ নোট উপযুক্ত একটি মডেল।
৩. এলজি গুগল নেক্সাস ৫ এক্স
বড় ভাই নেক্সাস ৬ পি ক্রেতাদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করলেও তুলনামূলক লাভজনক কিন্তু এই ফোনটি। নেক্সাস ৬ পি’র প্রায় সব ফিচারই আছে নেক্সাস ৫ এক্স’র, কিন্তু দামটা তুলনায় বেশ কম, প্রায় সাড়ে ৩৭ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। আকারেও কিছুটা স্বাভাবিক ব্যবহার্য ফোনের মতো (৫.২ ইঞ্চি)।
১০৮০X১৯২০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের চমৎকার স্ক্রিন এবং কার্যকর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরযুক্ত দ্রুতগতির স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো। এর আছে দু’টি ভার্শন: একটিতে ইন্টারনাল মেমোরি ১৬ জিবি, অন্যটিতে ৩২। যেহেতু ফোনটিতে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ নেই, এক্ষেত্রে ৩২ জিবি মডেলটাই মনে হয় কেনা ভালো।
২. আইফোন ৬এস
বছরের সেরা ফোনের তালিকা, আর সেখানে একটাও আইফোন থাকবে না, তা কি হয়? অ্যাপলের ২০১৫ সালের আইফোন তার পূর্বসূরিদের স্টাইল ধরে রাখলেও এতে যোগ হয়েছে নতুন ধরণের চাপ সংবেদনশীল টাচস্ক্রিন এবং আগের চেয়ে অনেক উন্নত ক্যামেরা।
আগের মডেলগুলোর চেয়ে খুব বেশি আপগ্রেড না হলেও ডিভাইসটি এ বছর বাজার পেয়েছে খুব ভালো। অবশ্য এর পেছনে কারণ হলো অ্যাপলের বড় একটি ভক্তগোষ্ঠী, যারা আইফোন বলতেই অজ্ঞান। তাছাড়া আইওএস প্রযুক্তির এই স্মার্টফোনের বিকল্প বাজারে খুব বেশি নেই বলেও আইফোন ৬এসকে কেউ দমাতে পারেনি; উঠে এসেছে নাম্বার ২-এ।
১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৬ এজ
এবার বলি এ বছরের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে ব্যবহারবান্ধব, অসাধারণ ফিচার এবং ব্যয়বহুল স্মার্টফোনের মধ্যে অন্যতম স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৬ এজ’র কথা। ফোনটির সুদৃশ্য মেটাল বডির দিকে তাকালে যেনো চোখই ফেরানো যায় না। হাতে নিলে মনে হবে ফোনটা যেনো আপনার হাতে রাখার জন্যই তৈরি!
তবে শুধু দর্শনধারীই নয়, গ্যালাক্সি এস ৬ এজ গুণেও অনন্য। দ্রুতগতির এই স্মার্টফোনটি চলে অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ অপারেটিং সিস্টেমে। ১৪৪০X২৫৬০ পিক্সেলের মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো নজরকাড়া রেজ্যুলেশনের ফোনটি আছে সেরকমই সুন্দর ছবি তোলার মতো ১৬ মেগাপিক্সেল এবং ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
শুধু মেগাপিক্সেলের হিসেবে যাবেন না কিন্তু। স্যামসাংয়ের উন্নতমানের ক্যামেরা সেন্সর ছবি তোলার মুহূর্তগুলোকেও করে তোলে আনন্দময়। পরিচিতদের মাঝে আলাদা ভাবই চলে আসবে যখন তারা আপনার হাতে দেখবে প্রিমিয়াম মানের এই স্মার্টফোনটি। তবে তার জন্য আপনাকে গুনতে হবে দোকানভেদে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।






