জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, উপকূলে অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া না হলে এসব কার্যক্রমের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সহনশীল উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কারিগরি পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের প্রতিনিয়ত প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবারই আগ্রহ রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কীভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলেই কেবল এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার লক্ষ্য হলো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধান চিহ্নিত করা এবং ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য অগ্রাধিকার এলাকা নির্ধারণ করা।
অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, উপকূলীয় সহনশীলতা বাড়াতে অর্থ, পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কাঠামোর আওতায় কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগের পরিবর্তে একটি অভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূদৃশ্যভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে, যেখানে সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা বলেন, ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ জলবায়ু ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব একেএম সোহেল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একুয়াকালচার ও মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক তথ্য, মানচিত্র ও বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা এবং যেখানে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব, সেসব এলাকা চিহ্নিত করবেন।
আলোচনার মাধ্যমে উপকূলীয় সহনশীলতা জোরদারে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার, সুশাসন, পরিবীক্ষণ, নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও টেকসই অর্থায়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
কর্মশালাটি ‘মাউন্টেনস টু ম্যানগ্রোভস’ আঞ্চলিক উদ্যোগের অংশ, যার আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালে পাহাড়ি জলাধার থেকে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পর্যন্ত আন্তঃসংযুক্ত প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

