জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে শুরু থেকেই জড়িত ছিলো জিয়াউর রহমান। তিনি পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। জিয়া এবং তার স্ত্রী নিয়মিত বঙ্গবন্ধুর কাছে যেতেন, সেটাও হয়তো ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলো। সে কারণেই তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তার কারণেই দেশে একের পর এক ক্যু হয়েছে। স্বাধীনতার চেতনাকে ধবংস করে ভিন্ন পথে দেশকে নেয়ার চক্রান্ত করেছেন জিয়া।
মার্শাল ল দিয়ে সংবিধান লংঘন করে যে ক্ষমতায় এসেছিল, সে কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিতে পারে প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনীদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন জিয়ার স্ত্রী, তাই তিনিও ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বলেন: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য আমি ১৯৮০ সালে লন্ডনে যেয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করি। স্যার ম্যাকব্রাইট এবং স্যার টমাস উইলিয়ামকে দিয়ে। তারা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময়ও বাংলাদেশে এসেছিলেন তদন্ত করতে। অথচ জিয়াউর রহমার তাদেরকে বাংলাদেশে আসার ভিসা দেয়নি। এই হত্যার তদন্তে জিয়াউর রহমান বাধা দিয়েছিল কেনো? যদি সে ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ে জড়িত নাই থাকে তাহলে সে বাধা দিবে কেনো? জিয়া সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল। আর জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনী, তাকে সংসদে বসিয়েছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কী দাড়াচ্ছে? জিয়া একাই নয়, তার স্ত্রীও এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নাই। খুনীরা খুনিই হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বারবার আমার ওপর আঘাত হেনেছে। কাজেই এদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের মানুষ কী উন্নয়ন পাবে? কী ন্যায়বিচার পাবে? সে প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের বাবা, মা, ভাই, হত্যার বিচারের জন্য ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশে একটা হত্যাকা- হলে মানুষ বিচার চায়। আমি যেহেতু সরকার প্রধান আমার কাছে বিচার চাইতেই পারে। তারা কী একবারও ভেবে দেখেছে আমি একদিনে বাবা হারিয়েছি, মা হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি। খুনীরা জাতির পিতাকে হত্যা করলো, শিশু হত্যা করলো। কই আমরা তো বিচার চাইতে পারি নি। ১৯৭৫ এর পর কতোজনই তো ক্ষমতায় এসেছে, কেউ আমার বাবার হত্যার বিচার করে নি। আমি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এই বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। আমি ক্ষমতায় না আসলে হয়তো বিচারই হতো না।
প্রধানমন্ত্রী এসময় নাম উল্লেখ না করে দৃক গ্যালারির পরিচালক আলোচিত্রী শহীদুল আলমের বিষয়ে বলেন, অনেক নামী, দামী জ্ঞানী, অনেক বড়ো আতেল, অনেক ইন্টেলেকচুয়াল কিন্তু তাদের রক্তের সূত্রটা কোথায়। বাংলাদেশের বিরোধী খান এ সবুরের বোনের ছেলে। ওই ধরণের যারা পাকিস্তানী চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী, তাদেরই বংশধর থেকে শুরু করে অনেকেই এর মধ্যে জড়িত। আবার তাদের ধরলে দেখি জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে খুব হৈ চৈ।
সরকারপ্রধান বলেন, শিশুদের উস্কানি দিয়ে যারা দেশকে অস্বাভাবিক করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। কেউ যদি মনে করেন খুব নামীদামী লেখক, সাংবাদিক বলেই তাদের অপরাধ আর অপরাধ না। তাদের অপরাধ সব মুছে যাবে। আমাদের সরকারের সময় তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই কেউ কেউ এদের সমর্থনে লিখে যাচ্ছেন। কিন্তু যে অন্যায় তারা করতে যাচ্ছিল, দেশটাকে কোন দিকে নিতে যাচ্ছিল, সেটা কী তারা উপলব্ধি করেন? তারা অনেক জ্ঞানী, জনপ্রিয় হতে পারেন কিন্তু তাদের মধ্যে কি একটুও দায়িত্ববোধ থাকবে না। যারা শিশুদেরকে ব্য্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায় তাদেরকে কী বাহবা দিতে হবে? আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সেটাই কি অন্যায় হয়ে যাবে? দেশকে রক্ষা করা দেশের মানুষকে রক্ষা করা এটাই তো আমার কর্তব্য।
শিশুদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বুড়োরা হঠাৎ স্কুলড্রেস পরে ছোট ছোট হতে চাইলো। কেন? উদ্দেশ্যটা কী? এরা কোন স্কুলের ছাত্র। এদেরকে গ্রেপ্তার করলে কাদের দুঃখ? কাদের হাহাকার? আর্ন্তজাতিক সাংবাদিক এবং আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবি তারা কী চোখ খুলে দেখবেন না? উস্কানিদাতাকে গ্রেপ্তার করা হলে আর্টিকেল লিখতে পারেন। আর যারা দেশকে অস্তিতিশীল করতে চেয়েছিল, তারা কী এর বিরুদ্ধে কলম ধরবেন না? কলমের কালি ফুরিয়ে গেলো, তাই লিখতে পারছেন না। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেলো বলে লিখতে পারছেন না। প্রশ্ন এখানে, যে যতো বড়োই হোক, তার কী বিচার হবে না বাংলাদেশের মাটিতে। তাহলে আমাদের যুক্তি এটাই খুজতে হয়। যারা ১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে জড়িত, এখনও যারা এই চক্রান্ত করে যাচ্ছে, বংশ পরম্পরায় যারা করছে বাংলাদেশের মানুষকে বলবো এদের সর্ম্পকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ, এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ-ভালো দেখতে চায় না।







