আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুই প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের উপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে অস্বীকার করা মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশকে অস্বীকার করা।
মঙ্গলবার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ কর্তৃক আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধে আইন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তুুরন অাফরোজ।
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭২ সালের আদি সংবিধান থেকেই এই দুটি বিষয় আমাদের সংবিধানের অন্তর্গত করা হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্র দুটি আমাদের সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলেও স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্র ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি হিসেবে চিহ্নিত করে সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।
‘একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত রয়েছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি। সুতরাং এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যা সংবিধান লঙ্ঘনের ও শামিল।’
এই কুচক্রী মহলের বিষয়ে জনগণকে সাবধান করে দিয়ে ব্যারিস্টার তুরিন বলেন, যেসব কুলাঙ্গারেরা এই সমস্ত অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করছে তাদের হাত ধরেই এই দেশে জামায়াত ইসলামী পুনর্বাসিত হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে উড়েছে স্বাধীন বাংলার পতাকা। এখন সময় এসেছে এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার।
বিচারপতি শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম পি, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ।








