স্ট্রবেরির প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। মোড়ে মোড়ে পথবণিক হাঁক ছাড়ছেন ‘এ্যাই স্ট্রবেরি’। ব্যাপারটি ভালো লাগে। এগুলো পথবাণিজ্যের শোভাও বটে। আমার কাছে অভিনব লাগে স্ট্রবেরি পাতলা করে কেটে রঙিন আর উপাদেয় একটি খাবার হিসেবে পরিবেশন করার বিষয়টি। এই পরিবেশনায় স্ট্রবেরির চাকার সঙ্গে মেশানো থাকে সামান্য ঝাল ও মিষ্টি। এটি আমি প্রথম দেখেছি একুশে বইমেলার গেটে। গতবারই প্রথম টেস্ট করেছি। এবারও যথারীতি এই আয়োজনটি রয়েছে। রয়েছে আরো বহু বৈচিত্রময় খাদ্যের আয়োজন।
বিকেলের কোলাহলে, সন্ধ্যার আলো আঁধারিতে, ভীড় ঠেলে মেলায় ঢোকা ও বেরোবার সময় কোন্ খাবারটি ভালো লাগবে, তা রাজু ভাস্কর্য সোজা সোহরাওয়ার্দি উদ্যান গেট থেকে বইমেলার মূল প্রবেশ পথ পর্যন্ত খাদ্যের পসরা দেখলে ধন্ধে পড়ে যেতে হয়। নারকেল মুড়ি, ফুচকা, ঘটি গরম চানাচুর বাদাম মাখানি, আমসত্ত্ব, লেবুর শরবত, হটপেটিস, কাঁচা আম ও পেয়ারা কাসন্দি, বড়া পাকোড়া, চিংড়ির মুণ্ডু ভাজা, দই-মিষ্টি, শনপাপড়ি, নানা রকমের আচার সবই আছে পথখাদ্যের পসরায়। প্রতিদিনই পসরা বড় হচ্ছে। বইমেলার ভীড়ে অসাধারণ কেনাবেচার সুযোগ পেয়ে গেছেন পথখাদ্যের ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা।
একসময় বইমেলার ভেতরে খাদ্যের খোঁজ পাওয়া যেত না। ব্যবস্থাই ছিল না। পরে কিছু খাবারের দোকানপাটের ব্যবস্থা হলো। কিন্তু মেলার ভেতরের খাদ্য আয়োজনগুলো জড়োয়া গহনার মতো। হাত ধরে টেনে বারিয়ানি খেতে বসিয়ে দেয় যেন। তুমুল জবরদস্তির মতো ব্যাপার। মেলা যখন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গনে সীমাবদ্ধ ছিল পর পর কয়েক বছর দেখেছি বাইরে পাইরেটেড বইয়ের পসরা বসে গেছে। এখন তার বদলে বৈচিত্রময় খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে যারা বসেছেন তারা অলংকার যোগ করেছেন। এখানে খাদ্যের পসরার পাশাপাশি পাওয়া যায় অনেক কিছু। মেয়েদের মাথার ফুলের ঝালর থেকে শুরু করে কাঠ ও মাটির গহনা এমনকি কাঁচা ফুল পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। অসাধারণ ব্যাপার। মেলার চরিত্র তো এমনই। পথে পথে মজা না থাকলে মেলা জমে নাকি?
মেলার ভেতর সবাই উন্মুক্ত জীবন চর্চায় নামুক। সবাই নিজস্ব রুচি ও আনন্দের ভাষা খুঁজে নিক। সবাই মেলায় এসে স্বাধীন হয়ে যাক। তবেই না মেলা জমে। সেদিন সন্ধ্যায় ফিরছি। দুই নারী পুলিশ হাতে কাসন্দি মাখা কাঁচা আম নিয়ে হেঁটে গেলেন আড়ালে, খুব ভালো লাগলো। এক বয়স্ক ভদ্রলোক ফিরছিলেন একা। একটি হাওয়াই মিঠাই নিয়ে, পলিথিন ছিঁড়ে খেতে শুরু করলেন। এমন দৃশ্য দেখেই তো মেলার মজা নিতে থাকি।
(চলবে)







